• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন

মতামত

হজ্ব কোরবানির তাৎপর্য ও শিক্ষা

লেখক: হাফিজ ছিদ্দিকী, (কলামিস্ট ও মুক্তিযোদ্ধা)
আপডেট: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

হজ্ব এর আভিধানিক শব্দ হলো কোনো বিষয়ে মনস্থি করা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা। ইসলামিক পরিভাষায় মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একটি নির্দিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট সময়ে বায়তুল্লাহ জিয়ারত, তাওয়াফ সাহি শেষ করে ৮ ই জিলহজ মক্কার অদুরে মিনায় অবস্থান করে ফরজ নামাজ নফল ইবাদত ও জিকির আজকারের মধ্যদিয়ে রাত যাপনের পর সোবেহ সাদিক পর্যন্ত অবস্থান করে ফজরের নামাজ আদায়। এরপর ফজরের নামাজের পর রওয়ানা করে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা এবং যোহর আসর এক সংগে কছর করে মাগিবের পূর্ব পর্যন্ত অবস্থান করা।

হজ্বের আগে কোরবানি বা ত্যাগের নির্দেশ এসেছে হযরত ইব্রাহীম আঃ এর জন্য এক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে। অসংখ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে হযরত ইব্রাহীম আঃ যখন কেনান থেকে হিজরত করে আপন স্ত্রী সারা ও হাজেরাকে নিয়ে মক্কায় এক মরুভূমিতে গমন করেন। হযরত সারার কোনো সন্তান ছিলোনা। হযরত ইব্রাহীম আঃ একদিকে সন্তানের জন্য দোয়া করছিলেন এবং হাজেরাকে ও নিজের জন্য স্ত্রী হিসেবে কবুল করেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সে হযরত হাজেরার ঔরশে হযরত ইসমাইল আঃ জন্ম গ্রহণ করেন। এই কলিজার টুকরো শিশুটি যখন হাটতে চলতে শিখেছে ঐ সময়ে মহান আল্লাহ পিতাকে স্বপ্নের মাধ্যমে প্রিয় যিনিষ কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইব্রাহীম আঃ এর বুঝতে বাকি রইলোনা যে একমাত্র ছেলের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইব্রাহীম আঃ সরাসরিই হযরত ইসমাইলকে কোরবানির বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে ইসমাইল আঃ উত্তর দিলেন হে পিতা আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করুন। আমাকে আল্লাহ চাইলে ছবর কারী হিসেবেই পাবেন।
হযরত ইসমাইলকে জবেহ করার জন্য মিনায় উপস্থিত হয়ে আল্লাহর কুদরতে ইসমাইল আঃ এর পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হলো। এই পরীক্ষায় পাশ করার পর পিতা পুত্র দুজনেই বায়তুল্লাহ পূনঃনির্মান করেন। এরপর এই ক্কাবা কেন্দ্রিক বিশ্ববাসীর প্রতি সম্মেলনের আদেশ করা হলে হযরত ইব্রাহীম আঃ উচু পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি হজ্বের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই দিন থেকে হজ্বের সুচনা হলেও ইসমাইল ও ইসহাকের বংশধরেরা নানা প্রকার শেরকে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি ক্কাবার মধ্যে মূর্তিপূজা শুরু হয়। তখনকার সময়ে সৎ লোকেরা কোরবানি করলেও তা খাওয়ার অনুমতি ছিলোনা। পশু গুলো একসাথ করে ফেলে আসার পর আকাশ থেকে আগুনের ফুলকি এসে এইসব পুড়িয়ে ফেলা হলেই তাদের হজ্ব কবুলের ইংগিত পাওয়া যেতো।

রাসুলুল্লাহ দঃ নবুয়তের পর মদীনার যুগে আবার হজ্বের আদেশ দেয়া হয়। সুরা সাফফাতের ১০২ আয়াতে, সুরা হজ্বের ৩৭ আয়াতে, সুরা বাকারার ১৯৬ আয়াতে, ইন আমের ১৬২-১৬৩ আয়াতে ও সুরা হজ্বের ৩৪ নং আয়াতে হজ্ব ও কোরবানির বর্ণনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ দঃ দশম হিজরীতে এই হজ্ব ও কোরবানির পদ্ধতি শিখিয়ে দিলেন সাহাবায়ে কেরামকে। হযরত আবু হুরায়রা রা বলেন হজ্ব ও কোরবানি সামর্থ্যবানদের জন্য। কোরবানি সচ্ছল লোকদের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ্ব যা সামর্থ্যবানেরা সম্পাদন করবে। জবাইকৃত পশুর গোস্ত কিছু নিজেরা খাবে, আত্মীয় স্বজনদের খাওয়াবে ও মুখাপেক্ষীদের মাঝে বন্টন করবে। যারা হজ্ব পালন করতে যাবেন তাঁদের জন্য হজ্বের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। (১) হজ্বে কেরান (২) হজ্বে তামাত্তু (৩) হজ্বে ইফরাদ। যারা আর্থিক সামর্থ্যের জন্য কোরবানি করতে পারবেনা তারা ১০ টি রোজা পালন করবে। এর মধ্যে ৩টি আরাফা শেষে এবং বাকি ৭টি আপন গৃহে পৌছে পুরন করতে হবে। বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর কোরবানির রেওয়াজ রয়েছে। হযরত আয়েশা রা বলেনঃ কোরবানির পশু কিয়ামতে স্বাক্ষী হবে। এমনকি কোরবানির পশুর রক্ত গোস্ত চামড়া জমিনে পড়ার পূর্বেই তাদের আমল নামায় তার সওয়াব পৌঁছে দেয়া হয়। মহান বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর হজ্ব ও কোরবানিকে কবুল করুন, আমিন।
——————————–
লেখক: হাফিজ ছিদ্দিকী,
(কলামিস্ট ও মুক্তিযোদ্ধা)


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১