• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো-২০২৬’ শুরু

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দেশের হালকা প্রকৌশল শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদিত পণ্যের প্রসারে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো-২০২৬’ শুরু হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিন্টো রোডের শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট (ফাইন্যান্স, কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট) হোসনা ফেরদৌস সুমি এবং এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুর রহিম খান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইসিফোরজে এর সহযোগিতায় এই মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ)।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করছে। এই ধরনের এক্সপো শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য অন্যান্য দেশে রপ্তানিতে যে পরিবর্তন আসে সেটা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য নিয়েই হয়। আমরা গত ৪০ বছরে কৃষি থেকে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে আসলাম, সেখান থেকে আমরা টেক্সটাইল এবং আরএমজিতে যুক্ত হলাম। কিন্তু এই জায়গা থেকে আমাদের আরেকটু সামনে যাওয়া কথা ছিল, যেটা ছিল লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য। সেখানে আমাদের উত্তরণ ঘটেনি।

আবদুর রহিম খান বলেন, আমরা স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছি। কথা বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত। এটা কীভাবে একটা শিল্প খাত হবে, কীভাবে বিসিকের মাধ্যমে একটা বিপ্লব হবে, কীভাবে একটি পথরেখা নির্ধারণ করে এই খাতকে রপ্তানির মহাসড়কে নিয়ে যাবো এরকম অনেক কিছু হিসাব আমরা করেছি। কিন্তু যে প্রত্যাশা নিয়ে আমরা এ কাজগুলো করেছি সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

বিশেষ অতিথির ব্যক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মাধ্যমে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহায়তা করা হচ্ছে। রপ্তানিতে এই খাত বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এই খাতের প্রধান সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই খাতে পণ্যের মান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া উৎপাদনে খরচ কমিয়ে আনা এবং সক্ষমতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

শ্রমিক এবং যন্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পলিসি বাস্তবায় হলে এই খাত এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে এই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

হোসনা ফেরদৌস সুমি বলেন, বিভিন্ন পরিসংখ্যানে ৪০ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার সংখ্যা পাওয়া গেলেও বাস্তবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। তাই এই খাতে প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকার হয়তো নীতি সহায়তা দিতে পারবে। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়াও মার্কেটিং এবং পরিচিতির জন্য এই ধরণের মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত জিডিপিতে ৩ শতাংশ অবদান রাখছে। বর্তমানে এই খাতের অবস্থা খুব বেশি ভালো না হলেও নির্বাচনের পর এই অবস্থার উন্নতি হবে। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই এক্সপো উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন প্রযুক্তি, বাজার সংযোগ ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, যদি এই খাতের নীতি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় তাহলে রপ্তানিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। এছাড়া আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই মেলা আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই মেলা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৪টায় এই প্রদর্শনী শেষ হবে।

এবারের মেলায় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ২৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি দুটি কারিগরি সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকরা আশা করছেন, এই মেলা দেশীয় ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তির (State of Art Technology) সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ উদ্যোগে শিল্প স্থাপন ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১