• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার লক্ষ্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি–জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করেন। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এবং বর্তমান গভর্নরের তৃতীয় মুদ্রানীতি।

নতুন মুদ্রানীতিতে প্রধান নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরাসরি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। নতুন মুদ্রানীতিতে এই হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একইভাবে আন্তঃব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশেই বহাল থাকছে।

তবে ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত রাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলো যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা রেখে অলস না বসে থাকে এবং বাস্তব খাতে বিনিয়োগ বাড়ায়, সে লক্ষ্যেই এসডিএফ সুদহার কমানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি আরও কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সামান্য বাড়ানো হয়েছে। আগের মুদ্রানীতিতে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ ও নিয়োগ বাড়তে পারে—এই প্রত্যাশা থেকে জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এই খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

সরকারি খাতেও ঋণ প্রবৃদ্ধির নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। যদিও চলতি অর্থবছরে এই খাতে ঋণ গ্রহণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে সরকারি ঋণ গ্রহণের লক্ষ্য ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, কিন্তু ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ঋণ নিয়েছে ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই এই মুদ্রানীতির মূল উদ্দেশ্য


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১