• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

কঠোর মুদ্রানীতিতে বাজেটের সুফল ম্লান হতে পারে : ডিসিসিআই

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

বেসরকারিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে আসার পরও বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সংগঠনটির মতে, কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকলে সদ্য ঘোষিত প্রবৃদ্ধিমুখী জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য সুফল অনেকটাই ম্লান হয়ে যেতে পারে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ বিবৃতিতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, টানা চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নেই। ফলে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নীতি সুদহার উচ্চ পর্যায়ে থাকায় ঋণের ব্যয়ও কমছে না, যা বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য বড় বাধা।

ডিসিসিআই বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এ তহবিলের স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত এবং টিকে থাকার সংগ্রামে থাকা ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তা, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং উৎপাদনমুখী খাতকে সহজ শর্তে ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় এই তহবিলের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকা শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিসিসিআই।

বিবৃতিতে সরকারি ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ডিসিসিআইর মতে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের সীমিত তারল্যের বড় অংশ সরকারি খাতে চলে যাচ্ছে এবং বেসরকারি খাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

জাতীয় বাজটে ঘোষিত কর ও রাজস্ব সুবিধা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, ব্যবসায়ীরা যদি সাশ্রয়ী সুদে পর্যাপ্ত অর্থায়নের সুযোগ না পান, তাহলে এসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। তাই বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারিখাতনির্ভর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০