ব্রোকারেজ হাউস সালতা ক্যাপিটালের চার শীর্ষ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব জব্দের মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। চলমান তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে এ বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।
যাদের হিসাব জব্দের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তারা হলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক (অর্থ) ও জেনারেল ম্যানেজার।
সালতা ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের শতকোটি টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বিএসইসির তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার নগদ ঘাটতি এবং ৭২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ ঘাটতি পাওয়া গেছে।
বিএসইসির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত চার কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব থেকে সব ধরনের ডেবিট ট্রান্সফার ও নগদ উত্তোলন আরও ৩০ দিন বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএফআইইউকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে বিএসইসির আবেদনের ভিত্তিতে গত ৭ জুলাই অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব ৩০ দিনের জন্য অবরুদ্ধ করে বিএফআইইউ। পরে সংস্থাটি জানায়, মেয়াদ বাড়াতে হলে বিধি অনুযায়ী নতুন করে আবেদন করতে হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন আবেদন করেছে বিএসইসি।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিএসইসির তদন্তে আরও জানা গেছে, সালতা ক্যাপিটালের প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহকের বিও হিসাবে থাকা ৪ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৩টি শেয়ার গোপনে বিক্রি করা হয়েছে। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ৭২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
এ ছাড়া গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাবে থাকা ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অন্য হিসাবে সরিয়ে নেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সালতা ক্যাপিটালের অনিয়ম প্রথম ধরা পড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আকস্মিক পরিদর্শনে। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর পরিচালিত ওই পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে বড় ধরনের ঘাটতি শনাক্ত হয়। পরে বিষয়টি বিএসইসিকে জানানো হয়।
এরপর ২৬ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২১ মে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে গ্রাহকদের শেয়ার ও নগদ অর্থে বড় ধরনের অনিয়ম ও ঘাটতির বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে।
বিএসইসি জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ রাখার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।