• শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন

মতামত

অপ্রয়োজনীয় ওষুধ-পরীক্ষায় বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ বাংলাদেশের চিকিৎসা বিভাগের দায়িত্বশীলবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী রোগীরা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজকে অযাচিত ঔষধ লেখা এবং অযাচিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া কতটা বেদনাদায়ক একটি রোগীর জন্য, সে বিষয়ে কিঞ্চিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা সবাই সাথে থাকুন।

আপনাদের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত নিখুঁত এবং বাস্তবসম্মত। অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখা (Over-prescription/Abuse of Drugs) এবং অপ্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা দেওয়া (Abuse of Investigation) — এই দুটি সমস্যাই দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।

​কে দায়িত্ব নেবে?:

​এক একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। এর জন্য একটি সম্মিলিত কাঠামোর প্রয়োজন:

​স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS):

জাতীয় চিকিৎসা নীতি বা Clinical Treatment Guidelines তৈরি এবং তা বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব সরকারের।

​বিএমডিসি (BMDC – Bangladesh Medical & Dental Council):

চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নীতি নৈতিকতা মনিটর করা এবং ভুল বা অনৈতিক প্রেসক্রিপশনের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া।

​বিএমএ (BMA) ও বিশেষজ্ঞ সোসাইটিসমূহ:

চিকিৎসক সংগঠনগুলোর নৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করা এবং ওষুধ কোম্পানির প্রভাবে প্রেসক্রিপশন পরিবর্তনের সংস্কৃতি বন্ধ করা।

​ডায়াগনস্টিক ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (DGDA):

ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনৈতিক বিপণন (যেমন চিকিৎসকদের উপহার বা কমিশন দেওয়া) বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা।

​এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার উপায়:

​১. রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
​স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল (STP):

প্রতিটি রোগের জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা প্রোটোকল নির্ধারণ করা, যার বাইরে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক বা টেস্ট দিলে চিকিৎসককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

​ই-প্রেসক্রিপশন (E-Prescribing) ও ডিজিটাল রেকর্ড:

সমস্ত প্রেসক্রিপশন ডিজিটাল পদ্ধতির অধীনে আনলে কোন ডাক্তার অতিরিক্ত টেস্ট বা অ্যান্টিবায়োটিক লিখছেন, তা সহজেই ট্র্যাকিং ও অডিট করা সম্ভব।

​ফার্মাসিউটিক্যালস প্রমোশন কোড:

ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের যেসব আর্থিক সুবিধা বা উপহার দিয়ে টেস্ট বা ওষুধ প্রমোট করায়, তা আইন করে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

​২. রোগী ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা (ব্যক্তিগত সুরক্ষার উপায়)
​সরাসরি প্রশ্ন করুন:

ডাক্তার কোনো ওষুধ বা টেস্ট দিলে বিনীতভাবে জানতে চান:

​”এই পরীক্ষাটি কেন প্রয়োজন এবং না করলে কী অসুবিধা হতে পারে?”
​”এই ওষুধগুলোর মধ্যে কোনটা একদম জরুরি, আর কোনটা সাপ্লিমেন্ট?”

​অ্যান্টিবায়োটিক ও পেইনকিলারে সচেতনতা:

একটু জ্বর বা সর্দি হলেই ডাক্তারের কাছে অ্যান্টিবায়োটিক বা অতিরিক্ত ওষুধ চাওয়ার মানসিকতা ছাড়তে হবে।

​রেফারেন্স ও পুরনো রিপোর্ট সাথে রাখুন:

আগের কোনো সাম্প্রতিক টেস্টের রিপোর্ট থাকলে তা নতুন ডাক্তারকে দেখান, যাতে একই পরীক্ষা বারবার করতে না হয়।

​সেকেন্ড অপিনিয়ন (Second Opinion):

কোনো বড় পরীক্ষা, সার্জারি বা ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজন মনে হলে অন্য একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

​সিস্টেমের সংস্কার এক রাতে সম্ভব নয়, তবে কঠোর সরকারি তদারকি এবং রোগীদের সচেতনতাই পারে এই অতিরিক্ত খরচ ও অনিয়ম কমাতে।
আপনাদের সুচিন্তে মতামত প্রকাশ করুন।
ধন্যবাদ সবাইকে এতক্ষন সাথে থাকার জন্য।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০