আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ বাংলাদেশের চিকিৎসা বিভাগের দায়িত্বশীলবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী রোগীরা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজকে অযাচিত ঔষধ লেখা এবং অযাচিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া কতটা বেদনাদায়ক একটি রোগীর জন্য, সে বিষয়ে কিঞ্চিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা সবাই সাথে থাকুন।
আপনাদের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত নিখুঁত এবং বাস্তবসম্মত। অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখা (Over-prescription/Abuse of Drugs) এবং অপ্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা দেওয়া (Abuse of Investigation) — এই দুটি সমস্যাই দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
কে দায়িত্ব নেবে?:
এক একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়। এর জন্য একটি সম্মিলিত কাঠামোর প্রয়োজন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS):
জাতীয় চিকিৎসা নীতি বা Clinical Treatment Guidelines তৈরি এবং তা বাস্তবায়নে বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব সরকারের।
বিএমডিসি (BMDC – Bangladesh Medical & Dental Council):
চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নীতি নৈতিকতা মনিটর করা এবং ভুল বা অনৈতিক প্রেসক্রিপশনের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া।
বিএমএ (BMA) ও বিশেষজ্ঞ সোসাইটিসমূহ:
চিকিৎসক সংগঠনগুলোর নৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করা এবং ওষুধ কোম্পানির প্রভাবে প্রেসক্রিপশন পরিবর্তনের সংস্কৃতি বন্ধ করা।
ডায়াগনস্টিক ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (DGDA):
ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনৈতিক বিপণন (যেমন চিকিৎসকদের উপহার বা কমিশন দেওয়া) বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা।
এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার উপায়:
১. রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল (STP):
প্রতিটি রোগের জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা প্রোটোকল নির্ধারণ করা, যার বাইরে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক বা টেস্ট দিলে চিকিৎসককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
ই-প্রেসক্রিপশন (E-Prescribing) ও ডিজিটাল রেকর্ড:
সমস্ত প্রেসক্রিপশন ডিজিটাল পদ্ধতির অধীনে আনলে কোন ডাক্তার অতিরিক্ত টেস্ট বা অ্যান্টিবায়োটিক লিখছেন, তা সহজেই ট্র্যাকিং ও অডিট করা সম্ভব।
ফার্মাসিউটিক্যালস প্রমোশন কোড:
ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের যেসব আর্থিক সুবিধা বা উপহার দিয়ে টেস্ট বা ওষুধ প্রমোট করায়, তা আইন করে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
২. রোগী ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা (ব্যক্তিগত সুরক্ষার উপায়)
সরাসরি প্রশ্ন করুন:
ডাক্তার কোনো ওষুধ বা টেস্ট দিলে বিনীতভাবে জানতে চান:
”এই পরীক্ষাটি কেন প্রয়োজন এবং না করলে কী অসুবিধা হতে পারে?”
”এই ওষুধগুলোর মধ্যে কোনটা একদম জরুরি, আর কোনটা সাপ্লিমেন্ট?”
অ্যান্টিবায়োটিক ও পেইনকিলারে সচেতনতা:
একটু জ্বর বা সর্দি হলেই ডাক্তারের কাছে অ্যান্টিবায়োটিক বা অতিরিক্ত ওষুধ চাওয়ার মানসিকতা ছাড়তে হবে।
রেফারেন্স ও পুরনো রিপোর্ট সাথে রাখুন:
আগের কোনো সাম্প্রতিক টেস্টের রিপোর্ট থাকলে তা নতুন ডাক্তারকে দেখান, যাতে একই পরীক্ষা বারবার করতে না হয়।
সেকেন্ড অপিনিয়ন (Second Opinion):
কোনো বড় পরীক্ষা, সার্জারি বা ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজন মনে হলে অন্য একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সিস্টেমের সংস্কার এক রাতে সম্ভব নয়, তবে কঠোর সরকারি তদারকি এবং রোগীদের সচেতনতাই পারে এই অতিরিক্ত খরচ ও অনিয়ম কমাতে।
আপনাদের সুচিন্তে মতামত প্রকাশ করুন।
ধন্যবাদ সবাইকে এতক্ষন সাথে থাকার জন্য।
লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত।