• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে রাজধানীর ফলের বাজার

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫

রাজধানীর ফলের বাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মৌসুমি ও বিদেশি—সব ধরনের ফলের দাম এখন অনেকটাই মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

রবিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ফলেই অতিরিক্ত দাম চড়া। গোলমতি আম বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৮০ টাকায়, কাঠিবন আম ২২০ টাকা, চায়না আপেল ৩৫০ টাকা, সবুজ আপেল ৪০০ টাকা এবং লাল ও সবুজ আঙুর যথাক্রমে ৪০০ ও ৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, কমলা, মাল্টা, নাশপাতি, বেদানা, ড্রাগন ফলসহ প্রায় সব ফলের দামই কয়েকগুণ বেড়েছে। দেশি ফলের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়—পেয়ারা কেজি ৭০ টাকা, কলা প্রতি ডজন ১৫০ টাকা, তরমুজ প্রতিটি ৩০০ টাকা, জাম্বুরা ৭০ টাকা এবং হানি ডিউ ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ফল বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কম এবং পাইকারি বাজারে অতিরিক্ত দামের কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঘাটে গেলে মাল পাই না, আর যেটুকু আসে তার দামেই আগুন। আজ দুপুর পর্যন্ত এক টাকারও বিক্রি হয়নি।”

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আগের তুলনায় কম মাল আনলেও দ্রুত তা বিক্রি হয়ে যায়, কিন্তু ক্রেতা নেই বললেই চলে। বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, “আগে ৫০ হাজার টাকার মাল এক সপ্তাহ চলত, এখন দুই দিনেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু লাভ নেই, বিক্রিও কমে গেছে।”

অন্যদিকে, ভোক্তারা বলছেন, ফল এখন বিলাসপণ্য হয়ে গেছে। গৃহিণী রাশেদা আক্তার বলেন, “আগে বাচ্চাদের জন্য সপ্তাহে একবার আপেল কিনতাম, এখন মাসেও একবার পারি না।” ব্যাংক কর্মকর্তা আতিকুর রহমানের মতে, “সরকার যদি আমদানি সিন্ডিকেট ও সরবরাহ ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে সাধারণ মানুষের পক্ষে ফল কেনা সম্ভব না।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার