দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাসমূহ দূরীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাশাপাশি, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সচেষ্ট থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ইজ অব ডুয়িং বিজনেস কোথায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আগামী ৩ মাসের মধ্যে আমাদের জানান, ধাপে ধাপে সেগুলোর সমাধান করা হবে। ট্যাক্সের বিষয়ে বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সচেষ্ট থাকবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাতসমূহকে তৈরি পোশাক শিল্পের ন্যায় বন্ডেড ওয়্যার হাউজ, ব্যাক টু ব্যাক এলসিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। এজন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছে সুস্পষ্ট এবং যৌক্তিক প্রস্তাব আহ্বান করেছেন অর্থমন্ত্রী।
তলানিতে থাকা অর্থনীতিকে তুলে ধরতে বড় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণেই সরকার বড় বাজেট দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অবস্থায় দেশের অর্থনীতিকে শক্তভাবে এগিয়ে নিতে আগামী দুই বছর বিশেষ ‘পুশ অন’প্রয়োজন হবে। তৃতীয় বছর থেকে অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে চলতে শুরু করবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে হবে। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক খাতেও বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাত থেকে নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা আশা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সঠিক হাতে রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক প্রতিফলন দেশবাসী দেখতে পাবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই –এর প্রশাসক মোঃ আবদুর রহিম খান। তিনি কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারকে করনীতি, কর পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ, আধুনিকায়ন, অটোমেশন ও ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে নেট বা কর জাল সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। রপ্তানি উন্নয়নের স্বার্থে ইডিএফ (রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল) এর পরিমাণ বৃদ্ধি এবং সকল রপ্তানি খাতের জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব রাখেন তিনি।
সভায় এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে- আগামী বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ; করপোরেট কর হ্রাস; আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা, উৎসে আয়কর কর্তনের হার যৌক্তিকীকরণ; যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের উপর উৎসে কর হ্রাস; টার্নওভারের উপর ন্যূনতম কর হ্রাস এবং ধাপে ধাপে শূণ্যে নামিয়ে আনা; স্থানীয় পর্যায়ে সকল পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে মূসকের হার ২ শতাংশ নির্ধারণ করা; দেশে উৎপাদিত হয় না এমন ধরনের শিল্পের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানীতে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ এবং দেশে উৎপাদিত হয় এমন ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানীতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ; ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) এবং মাঝারি করদাতা ইউনিট (এমটিইউ) স্থাপনসহ বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সভার উন্মুক্ত আলোচনায় বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে অংশ নেয়া ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তাঁদের যৌক্তিক প্রস্তাব ও সুপারিশসমূহ বিবেচনায় রেখে আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়নের আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান।
সভায় এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, এফবিসিসিআই’র সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ডবৃন্দ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ, সাবেক পরিচালকবৃন্দ, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মোঃ আলমগীর, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।