• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন

সব ধরনের ডালের বাজার চড়া, সময়ের আগেই দাম বাড়ায় বিস্মিত ক্রেতারা

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

রাজধানীর বাজারে সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে। দেশি মসুর, অ্যাংকর ও ছোলার ডালের কেজিপ্রতি দাম এক মাসের ব্যবধানে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় ভোক্তারা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি খুচরা ব্যবসায়ীরাও এই বৃদ্ধিকে দেখছেন পাইকারি পর্যায়ের পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে।

ব্যবসায়ীদের মতে, সাধারণত রমজান সামনে রেখে ডালের মতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়, যা অনেক সময় প্রশাসনের নজর কাড়ে। এবার সেই চাপ এড়াতে অনেক বড় পাইকার আগে থেকেই মূল্য বাড়ানো শুরু করেছে।

তবে আমদানিকারক ও মিলারদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের দাবি, রমজান নয়, মূল কারণ বিশ্ববাজারে ডালের সরবরাহ সংকট। এখন অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে ডাল আমদানির মৌসুম নয়, ফলে দাম তুলনামূলক বেশি। তবে নভেম্বর থেকে নতুন ফসল বাজারে এলেই দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

বাজার ঘুরে যা দেখা গেল

শনিবার রাজধানীর তেজকুনিপাড়া, মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি মসুর ডাল (ছোট দানা) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়, যেখানে এক মাস আগেও ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে, আমদানিকৃত বড় দানার মসুর এখনও ৯৫ থেকে ১১০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে।

ছোলার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আগে প্রতি কেজি ছোলা পাওয়া যেত ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়, এখন তা বেড়ে ১০০ থেকে ১১৫ টাকায় পৌঁছেছে। ছোলার ডালও বেড়ে এখন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অ্যাংকর ডালের ক্ষেত্রে ৭৫ টাকা পর্যন্ত গিয়েছে, যেখানে এক সময় ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. রায়হান বলেন, “ডালের দাম ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে যেন হঠাৎ করে রমজানের আগে বাড়াতে না হয়। এতে নজর এড়ানো যায়। বড় ব্যবসায়ীরা খুব হিসাব করে কাজ করে।”

সরবরাহ ও আমদানির বাস্তবতা

ডাল ব্যবসায়ীদের সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নেসার উদ্দিন খান জানান, দেশে উৎপাদিত ডাল সর্বোচ্চ দুই মাসের চাহিদা মেটাতে পারে। বাকি সময়টা আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এখন সিরিয়া, তুরস্ক কিংবা ভারতের মতো আগের উৎসগুলো থেকে আমদানি প্রায় বন্ধ। ফলে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার ওপরই নির্ভরতা বেড়েছে। সংকট বাড়লে মিয়ানমার থেকেও কিছুটা আনা হয়।

তিনি আরও বলেন, “নভেম্বরের দিকে নতুন ফসল আসবে। তখন বাজারে সরবরাহ বাড়বে, দামও কমবে।”

সরকারি পর্যায়ের অবস্থান

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে সম্প্রতি যে মসুর ডাল কেনা হয়েছে, তার দাম স্বাভাবিকই ছিল। বাজারে দাম বাড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তার মতে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।

দেশে চাহিদা ও উৎপাদন ঘাটতির চিত্র

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশের মানুষের দৈনন্দিন ডালের চাহিদা মাথাপিছু ৪৫ গ্রাম করে। সেই হিসাবে বছরে প্রয়োজন প্রায় ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। কিন্তু দেশে উৎপাদিত হয় গড়ে মাত্র ১০ লাখ টনের মতো। ফলে প্রতিবছর প্রায় ৬০ শতাংশ ডাল আমদানি করতে হয়—যার পরিমাণ ১৭ লাখ টনেরও বেশি।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার