আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজকের আলোচ্য বিষয়—বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কি আবার ফিরে আসতে পারে? বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নটি যেমন সংবেদনশীল, তেমনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। কিন্তু যখন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ক্ষমতাসীনদের কার্যক্রমের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়, তখনই উদ্বেগ ও আশঙ্কা জন্ম নেয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামের চেতনা যদি বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে হতাশা বাড়ে এবং সেই শূন্যতা থেকেই নতুন সংকটের সূত্রপাত হতে পারে।
ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরতন্ত্র সাধারণত হঠাৎ করে আসে না; বরং কিছু লক্ষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। যেমন—বিরোধী মতের দমন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ, জবাবদিহিতার অভাব এবং একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রবণতা। কোনো রাজনৈতিক দল যদি এসব প্রবণতা অনুসরণ করে, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত হতে পারে।
তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা। ইতিহাস বলে, যখনই কোনো সরকার একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, তখনই ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। ফলে এখন আর আগের মতো সহজে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।
এর পাশাপাশি, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য। শুধু নির্বাচন নয়, বরং নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করাই প্রকৃত পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। অন্যথায় ব্যক্তি বা দল পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না।
সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ আবার ফ্যাসিবাদের দিকে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। তবে জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে যদি ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়, তাহলে তা অবশ্যই গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হবে। সচেতন নাগরিক সমাজ ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই পারে দেশকে কোনো অন্ধকার অধ্যায়ে ফিরে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে।
লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।