• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন

হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে ঢাকার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে “Dialogue on Health Parliament Bangladesh 2026” শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের নীতিনির্ধারক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, তরুণ নেতৃত্ব এবং ২০টিরও বেশি স্বাস্থ্যবিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. রাজিকুল হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের গভর্নিং বডির সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান রাজিব।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ডা. হালিদা হানুম আখতার, সিনিয়র ফ্যাকাল্টি, জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ; ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক শাফিউন নাহিন শিমুল, পরিচালক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; মো. আসিফ ইকবাল, সহকারী পরিচালক, স্কুল হেলথ প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া রানা, সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; এস. এম. শাইকাত, নির্বাহী পরিচালক, SERAC-Bangladesh; মো. আদনান হোসাইন, প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, It’s Humanity Foundation; ডা. মোহাম্মদ মাসুমুল হক, প্রতিষ্ঠাতা, Cancer Awareness Foundation of Bangladesh এবং ডা. এ.এন.এম. এহতেশাম কবির, ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (Adolescent Health & Mental Health), UNICEF Bangladesh।
গোলটেবিল আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল “হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ” নামে একটি নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য সংলাপ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক, তরুণ নেতৃত্ব এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
আলোচনায় হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ-এর একটি প্রস্তাবিত কাঠামো উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে ৩০০ জন “হেলথ পার্লামেন্ট মেম্বার” নিয়ে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। এসব সদস্য নিজ নিজ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যা, নাগরিকের মতামত ও স্থানীয় চাহিদা সংগ্রহ করে গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করবেন এবং তা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করবেন।

হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ-এর ধারণা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য মাহমুদুল হাসান।
বক্তারা বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (UHC) এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDG-3) অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তব স্বাস্থ্য সমস্যা, নাগরিকের মতামত ও স্থানীয় চাহিদা একত্রিত করে নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপনের মাধ্যমে কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।

তাঁরা আরও বলেন, হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক, নীতি সংলাপ, স্বাস্থ্য বাজেট বিশ্লেষণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, গবেষণা, অ্যাডভোকেসি এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য সমতার মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ, নিয়মিত সংলাপ, স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ এবং অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ দেশের স্বাস্থ্যনীতি উন্নয়নে একটি কার্যকর জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
গোলটেবিল আলোচনা শেষে হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা এবং এর লোগো উন্মোচন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা উদ্যোগটিকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গবেষণাভিত্তিক ও নাগরিক-অংশগ্রহণমূলক জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটি হেল্প দ্য ফিউচার-এর সহ-আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়। ইউকে-ভিত্তিক ফার্মা স্টার্টআপ মাই ফার্মা লিমিটেড ছিল পাওয়ারড বাই পার্টনার। সহযোগী হিসেবে ছিল ইডুড্রাইভ, আয়ুশকান্দি আই হসপিটাল ও বিশ্বনাথ আই হসপিটাল। কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল জেসিআই ঢাকা ডিপ্লোমেটস, ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম এবং ইয়ুথ কানেক্ট ফাউন্ডেশন।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার