• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করবে আজারবাইজান

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

এলএনজি সরবরাহ, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনে কাজ পেতে চায় আজারবাইজানের কোম্পানি সকার ট্রেডিং এসএ। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে এফএসআরইউ স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা এবং এলএনজির চুক্তির বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে এলএনজি সরবরাহের বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে সকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা সভার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই চিঠিতে এফএসআরইউ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, প্রস্তাব পর্যালোচনার নিমিত্ত এ বিভাগ (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ) কর্তৃক গঠিত কারিগরি কমিটির মাধ্যমে সকার এর এফএসআরইউ প্রস্তাব পর্যালোচনা।

পেট্রোবাংলার একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, এ বিষয়গুলো এখন মন্ত্রণালয় থেকে দেখেন। সবকিছু সিদ্ধান্ত তারা নিয়ে কার্যকরের জন্য প্রেরণ করেন। যদি জিটুজি ভিত্তিতে সাশ্রয়ী দর নিশ্চিত করা যায় দেশের জন্য খুবই মঙ্গল। এছাড়া একই কোম্পানি ভাসমান টার্মিনালের পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহ দেয় বিষয়টিও স্বস্তির। এতে আর টেনশন থাকে না। ইরান সংকটের পর বিষয়টি সামনে এসেছে।

সকার হচ্ছে স্টেট অয়েল কোম্পানি অব দ্য রিপাবলিক অব আজারবাইজান। কোম্পানিটি গত ১৫ জুন তারিখে দেওয়া প্রস্তাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত (নভেম্বর ৭, ২০২৫) সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেছে। এতে পাঁচ বছরে থেকে পনের বছর মেয়াদী চুক্তির আগ্রহের কথা বলা হয়েছে। চুক্তির আওতায় বছরে ৫ লাখ থেকে ১৫ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথা বলা হয়েছে।

নানা রকম কর্মকাণ্ডের কারণে খ্যাতির পাশাপাশি অনেক অনিয়মের সঙ্গেও সকারের নাম বিশ্বজুড়ে আলোচিত। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত সকার ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন করার অভিযোগ রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের এনজিও পাবলিক আই ও অন্যান্য সংস্থার তদন্তে দাবি করা হয় যে ২০১৭ সালে মাল্টায় একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ১৭ ব্ল্যাকের কাছে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ‘সন্দেহজনক’ অর্থ প্রদান করেছিল সকার ট্রেডিং। এ প্রকল্পের চুক্তিতে সকার ট্রেডিংয়ের ৩৩ শতাংশ অংশীদারত্ব ছিল। মাল্টার সরকার তদন্ত করে অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছে। বাংলাদেশে গ্যাস কূপ খনন নিয়ে সকারের সঙ্গে বাপেক্সের একটি মামলাও আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান।

দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুত কমে যাওয়া ও বাড়ন্ত চাহিদার যোগান দিতে ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। দেশে দু’টি এফএসআরইউ বিদ্যমান, একটি সামিট গ্রুপ, অপরটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট পরিচালনা করছে। তৃতীয় টার্মিনালের জন্য সামিটের সঙ্গে বিনা দরপত্রে চুক্তি করা হয়। যথা সময়ে নিরাপত্তা জামানত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেই চুক্তি বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি দ্রুত বিকল্প পথ ধরতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে কারণে আসছে ২০২৭ ও ২০২৮ সালে মারাত্মক গ্যাস সংকটের শঙ্কা দেখা যাচ্ছে।

এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬২৭ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সর্বোচ্চ (১১’শ মিলিয়ন ঘনফুট) সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিনই কমতে থাকা দেশীয় উৎপাদনে ঘাটতি সামাল দেওয়ার মতো কোন বিকল্প হাতে নেই বাংলাদেশের। আমদানি বাড়াতে হলে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করতে হবে।

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে কমপক্ষে ২৪ মাস, আর ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল করা হয় তাহলে ৮০ মাসের ধাক্কা। বিদ্যমান পাইপলাইন দিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা সম্ভব। সে কারণে শুধু টার্মিনাল হলেই সরবরাহ ইচ্ছেমতো বাড়ানোর সুযোগ নেই, দরকার হবে নতুন পাইপলাইনের। মহেশখালী-বাখরাবাদ তৃতীয় সমান্তরাল পাইপলাইনে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। কাজ শেষ হতে ৫ বছর সময় লাগবে বলে পিডিপিপিতে (প্রাক-উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) বলা হয়েছে।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি অনেকটাই অবধারিত বিবেচনা করা হয়। সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা। সেখানে গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিগত সরকারগুলো। সে কারণে দেশীয় উৎপাদনে প্রতিদিনেই কমে যাচ্ছে। নতুন নতুন কূপ খনন এবং পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার করেও ধস ঠেকানো যাচ্ছে না।

বাড়ন্ত চাহিদার বিপরীতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি থাকা দূরের কথা, বর্তমান উৎপাদন অব্যাহত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে শঙ্কার হচ্ছে দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুত ফুরিয়ে আসছে। দেশীয় উৎপাদনের ৫০ শতাংশের বেশি যোগান দেওয়া বিবিয়ানায় এক সময় ১৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও ৭ জুলাই পাওয়া গেছে মাত্র ৭৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

খোদ পেট্রোবাংলার অনেকেই মনে করেন, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে হঠাৎ করেই বড় ধরণের ধস দেখা দিতে পারে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে বিবিয়ানার উৎপাদন ৫০০ মিলিয়নের নিচে নেমে আসতে পারে। শঙ্কা সত্যি হলে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন দেড় হাজার মিলিয়নের নিচে নেমে যাবে। যে কারণে দ্রুততার সঙ্গে এফএসআরইউ স্থাপন ছাড়া খুব কম বিকল্পই সরকারের হাতে রয়েছে! এমনকি দরপত্র আহ্বানের মতো পর্যাপ্ত সময়ও নেই বলা যায়। কারণ জ্বালানির অভাবে থমকে রয়েছে দেশের শিল্পায়ন। গ্যাস সংযোগ প্রদান বন্ধ রেখেও ঘাটতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১