সংকটে পড়া চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) কার্যক্রম বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রশাসক দল নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একজন করে অস্থায়ী প্রশাসক এবং দুজন করে সহযোগী প্রশাসক দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ১২ জন কর্মকর্তা এ দায়িত্বে থাকবেন এবং তারা সবাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক অফিস আদেশে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ তদারকির জন্য এসব কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন।
যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো- আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।
আভিভা ফাইন্যান্সে অস্থায়ী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক আলাউদ্দীন হোসেন। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে রয়েছেন অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম গোলাম বহুলুল ও মাহবুবুর রহমান।
এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে অস্থায়ী প্রশাসক করা হয়েছে পরিচালক আবু সামা মো. আতাউর রহমানকে। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রোকসানা আক্তার ও মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বসির।
ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টে প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক সাদেকুর রহমান। তাঁর সঙ্গে সহযোগী প্রশাসক হিসেবে কাজ করবেন সাদরিল আহমেদ ও মো. আল-আমিন।
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে অস্থায়ী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। সহযোগী প্রশাসক হয়েছেন ফরিদ উদ্দীন আহমেদ ও জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পঞ্চম প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিষয়ে আদালতের আদেশ না পাওয়ায় এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার আমানতকারীর ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আগে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। প্রথম ধাপে ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের সম্মতিও পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ছিল অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে। এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ।
নতুন প্রশাসক দল দায়িত্ব নেওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।