• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

প্রাথমিক শিক্ষায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের প্রায় ২৬ মিলিয়ন শিক্ষার্থীর শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ।

‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিশুদের তাদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী পঠন, লিখন ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা প্রদান করা হবে। এটি মূলত সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক জানায়, এই উদ্যোগে গুরুত্ব পাওয়ার প্রধান কারণ হলো, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার অর্জিত হলেও শিক্ষার গুণগত মান এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। দেশে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই তাদের বয়সোপযোগী একটি সহজ পাঠ বুঝতে সক্ষম নয়। যেখানে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ায় এই হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে এ বিষয়ে বলেন, একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক কর্মীবাহিনী গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। বিগত দুই দশক ধরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে প্রায় সব শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসতে সহায়তা করেছে। নতুন এই অর্থায়ন শিশুদের আরও ভালোভাবে শিখতে এবং স্কুলে ধরে রাখতে সহায়তা করবে, যা পরবর্তীতে তাদের জীবনে আরও ভালো চাকরি পাওয়ার ভিত্তি তৈরি করবে

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি শিক্ষা কাঠামো। যেখানে সরকারি বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত স্কুল, কিন্ডারগার্টেন এবং মাদ্রাসা মিলে ২ কোটিরও বেশি শিশু পড়াশোনা করে। কর্মসূচির অধীনে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদান সামগ্রী, কাঠামোবদ্ধ পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞানভিত্তিক প্যাকেজ চালু করা হবে। এর পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও টিম লিডার তাশমিনা রহমান জানান, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য শক্তিশালী মৌলিক শিক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষেধকমূলক শিখন সুবিধা দেওয়া হবে। বিশেষ করে যে জেলাগুলো শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে সেগুলোতে বাড়তি নজর থাকবে। সেই সাথে কর্মসূচিটি শিক্ষক ও স্কুল নেতৃত্বের বিকাশ, বাজেটের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে।

নতুন এই কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিত বিষয়ে মানসম্মত পাঠদানের জন্য চিকিৎসাতুল্য প্রশিক্ষণ পাবেন শিক্ষকরা। একই সাথে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে, যা শিশুদের স্কুলে প্রবেশের শুরুতেই পড়ালেখায় শক্ত ভিত্তি তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে। আশা করা হচ্ছে, এই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির সুবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজারেরও বেশি নতুন এবং তুলনামূলক উন্নত বেতনযুক্ত চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল প্রদান করছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), যা সাধারণত নিম্ন-আয়ের দেশগুলোকে সহায়তায় কাজ করে। ২৫ বছর মেয়াদি এই ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশকে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০