• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

বাজারে অস্থিরতা, দুর্ভোগ চরমে

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকেই হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। বাজারে সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও পণ্যের দামে আগুন লেগেছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় থাকা চাল, ডাল, সবজি এখন যেন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

চালের বাজারে আগুন, মোটা চালও ৬০ টাকা!
রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা গেছে, স্বর্ণা জাতের মোটা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৭-৬০ টাকা দরে। অন্যদিকে বিআর-২৮ ও পাইজাম ৬৫ টাকা এবং মিনিকেট ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাল চালের দাম ছুঁয়েছে ৯০ টাকা পর্যন্ত।

সবজি কিনতেই ফুরিয়ে যাচ্ছে পকেটের টাকা
সবজির দামে মানুষের চোখ ছানাবড়া অবস্থা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বেগুন ১৪০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা—এমনই অবস্থা প্রায় সব পণ্যে। এমনকি কচু ও কুমড়ার মতো সাধারণ সবজিও ৬০ টাকার নিচে নেই।

ডালের কেজি ১৫০ টাকা, ডিমও ‘স্বপ্ন’
মসুর ডালের দাম প্রতি কেজিতে ১৫০ টাকা পৌঁছেছে। ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকায়। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ তো বটেই, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যেও প্রভাব পড়ছে স্পষ্ট।

মাছ-মাংসেও অস্থিরতা
মাছের বাজারেও পকেটের চাপে দমবন্ধ অবস্থা। রুই, কাতলা ৩৫০-৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নদীর চিংড়ি তো একেবারে নাগালের বাইরে—১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত দাম।

গরুর মাংসের দাম ৭৫০-৮০০ টাকা আর খাসির মাংস ১২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়, আর দেশি মুরগির দাম ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে কমছে খরচের তালিকা
শুধু খাদ্য নয়, পণ্যের দাম বাড়ায় চিকিৎসা, যাতায়াত ও শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় খরচেও কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। সপ্তাহের বাজার একবারে না করে খণ্ড খণ্ড ভাগে করার প্রবণতা বেড়েছে। অনেকে ন্যূনতম প্রয়োজনেও সংযম করছেন।

রাজধানীর নয়াবাজারে বাজার করতে আসা ভ্যানচালক হাবিবুল্লাহ বলছিলেন, “একটা সময় ছিল চাল, ডাল, সবজি একসঙ্গে কিনে ফেলতাম। এখন শুধু চাল-ডাল কিনতেই পকেট ফাঁকা হয়ে যায়। বাচ্চাদের জন্য কিছু সবজি নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও দাম শুনে মাথা ঘুরে যায়।”

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও নজরদারির অভাব
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন মনে করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বছরের পর বছর একইভাবে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে ভোক্তাদের ঠকিয়ে চলেছে। অথচ সরকার কার্যকর কোনও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেনি।

তিনি বলেন, “ভোক্তার স্বার্থে কোনও গবেষণা নেই, নেই নিয়মিত বাজার তদারকির উপযুক্ত পরিকল্পনাও। বছরের পর বছর ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা রয়েই গেছে।”

প্রশাসনের দাবি—তদারকি চলছে
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, “আমরা নিয়মিত বাজার অভিযান পরিচালনা করছি। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিনই বাজার মনিটর করা হয়। যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মেলে, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার