শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়-সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলাই মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এমনটাই প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণের।
ফায়ারফ্লাই ক্যাম্পেইনের উদ্যোগে এবছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে যথাক্রমে মে ১৭-৩১ এবং জুন ২০-২৬ পৃথক সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাদকের অপব্যবহার রোধে একটি ক্যাম্পেইন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, নোয়াখালী, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সোশ্যাল গ্রুপ, কমিউনিটিতে এবং ভারত, নিউজিল্যান্ড, কানাডা—এই তিনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকের অপব্যবহার রোধে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পেইনের কর্মসূচিতে ছিল লিফলেট বিতরণ, সচেতনতা বিষয়ক ফটোকার্ড পোস্ট, ভিডিও স্পিচ, সংবাদপত্রে আর্টিকেল লেখা এবং গণসংযোগ প্রভৃতি।
প্রসঙ্গতঃ ভৌগলিক অনুকূলতা, কৌতূহল, হতাশা, মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, সঙ্গদোষ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনের উদাসীনতা ও বিশ্বায়নের প্রভাব মূলত মাদকাসক্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত। শঙ্কার বিষয়, World Drug Report 2025 -এ তথ্যানুসারে, সংগঠিত মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলো বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বৈশ্বিক সংঘাত মাদক সম্পর্কিত অপরাধের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে, যা একসময় লাতিন আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা মাদক পাচারকারী সংস্থাগুলোর জন্য আরও বেশি পাচারের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকাজুড়ে কোকেন পাচারকারীরা নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ করছে। জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা – United Nations Office on Drugs and Crime (UNODC)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদকাসক্ত জটিল সামাজিক, স্বাস্থ্যগত ও অপরাধমূলক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত এবং মাদকের অপব্যবহার আর্থ-সামাজিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। বাংলাদেশ যেখানে অরক্ষিত অবস্থায় পতিত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সমীক্ষায় বলা হয়, দেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ লাখ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। মাদকাসক্তদের মধ্যে ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পুরুষ; ২ লাখ ৮৫ হাজার নারী এবং ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু। যা সত্যিই শঙ্কার বিষয়। এ প্রেক্ষাপটে ফায়ারফ্লাই ক্যাম্পেইন’র অবস্থান।
অনুষ্ঠিত ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে ফায়ারফ্লাই ক্যাালম্পেইন-এর আহ্বায়ক পাপেল কুমার সাহা বলেন, ফায়ারফ্লাই ক্যাম্পেইন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মাদকের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে আমাদের কাজের পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের কর্ম উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক মাত্রা। যার ফলশ্রুতি এবারের অনুষ্ঠিত ক্যাম্পেইন। আমরা মাদকের অপব্যবহারে বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে যেয়ে যেমন সামাজিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কাঠামোগত এবং প্রয়োগগত বিষয়ে সীমাবদ্ধতা প্রত্যক্ষ করেছি তেমনি মাদকের অপব্যবহারে বিরুদ্ধে সকলের ইতিবাচক সাড়া আমদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে শক্তি যুগিয়েছে।
উল্লেখ্য,‘ফায়ারফ্লাই ক্যাম্পেইন’ ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সুস্থ সমাজব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্য এবং ‘আঁধারে আলো হই’-এই মূলমন্ত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে সরাসরি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মাদকের অপব্যবহার রোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাজ করে আসছে ।