• বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

ই-সিগারেট নিষিদ্ধে হাইকোর্টের রুল

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

দেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট পণ্যসমূহ বাজার হতে কেনো অপসারণ করা হবে না – এই মর্মে সাইফুদ্দিন আহমেদ, এ. কে. এম. মাসুদ এবং হেলাল আহমেদ মহামান্য হাইকোর্টে রীট (রিট পিটিশন নং – ৭৭২১/২০২৬) দায়ের করেছন। রিটকারী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন তামাক নিযন্ত্রণে কাজ করে আসছে।

বিগত সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) মহামান্য হাইকোর্ট এর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। শুনানি অন্তে মহামান্য হাইকোর্ট নিম্নরূপে রুল জারি করেন –

“কেন সব ধরনের ই-সিগারেট (যেমন: ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENDS), ইলেকট্রনিক নন-নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ENNDS), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (HTP) এবং এগুলোর বিভিন্ন উপাদান বা অংশ (যেমন – ই-সিগারেট, ভ্যাপ/ভেপিং, ড্যাপার ও ই-লিকুইড ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত) সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না; এবং কেন অনলাইন ও দোকান —উভয় স্থান থেকেই এই পণ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে অপসারণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হবে না – যদিও এসব পণ্য মানবজীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং তা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।“

স্বাস্থ্য সচিব, শ্রম সচিব, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদী করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আমরা দেখেছি ট্রেডিশনাল তামাকের পাশাপাশি নতুন কিছু তামাক পণ্য ই-সিগারেট, ভ্যাপিংসহ আরো কিছু নিকোটিন পণ্য বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে সোচ্চার হয়ে পণ্যটিকে নিষিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই আইন সংশোধন করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০০৫’ পাশ করেন। এই অধ্যাদেশে ই-সিগারেটসহ নতুন প্রজন্মের নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে সেই নিষিদ্ধকরণ সম্পর্কিত ধারাটি বাতিল করা হয়েছে এবং এসব পণ্যকে আইনের সংজ্ঞা থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে ই-সিগারেট নিষিদ্ধে একটি আইনি শূন্যতা (Legal Vacuum) সৃষ্টি হয়েছে, যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও নিকোটিনে আসক্তি সৃষ্টিকারী নতুন প্রজন্মের তামাকজাত পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। আমরা বিশ্বাস করি, জনস্বাস্থ্য রক্ষার প্রশ্নে আইন, সংবিধান এবং বিচার বিভাগের পূর্ববর্তী নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই একটি সুস্থ, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

শুনানি শেষে ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ই-সিগারেটকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করে। তার দাবি, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে ই-সিগারেট বিক্রি বা ব্যবহারের অনুমোদন নেই। তবুও রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে এটিকে বাজারজাতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ই-সিগারেটের ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার