• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

ফুলবাড়িয়া বাস কাউন্টার বন্ধে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার বন্ধ থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় প্রতিদিন হাজারো যাত্রীকে গন্তব্যে যেতে অতিরিক্ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ফুলবাড়িয়া আন্তঃজেলা বিআরটিসি বাস টার্মিনাল থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করতেন। রাজধানীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সরকার সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও গুলিস্তানের বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিলেও এখন পর্যন্ত সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী টার্মিনাল আগের স্থানেই রয়েছে। তবে শুধুমাত্র ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনসংক্রান্ত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুলবাড়িয়া থেকে পরিচালিত ব্যক্তি মালিকানাধীন বাসগুলো সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বাস মালিকদের দাবি, পর্যাপ্ত সময় কিংবা কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা না দিয়েই তাদের কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, মেট্রোরেলের দুটি স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে যাতায়াত ছিল সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। এখন কাউন্টার বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রীকে গুলিস্তান থেকে হেঁটে বা রিকশায় দূরে গিয়ে বাস ধরতে হচ্ছে। এতে সময়, ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচ—সবই বেড়েছে।
একাধিক যাত্রী বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলে সাধারণ মানুষকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

অন্যদিকে পরিবহন মালিকরা সরকারের যানজট নিরসনের উদ্যোগের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হলেও তারা বলছেন, রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল যখন এখনও আগের স্থানেই রয়েছে, তখন শুধু ফুলবাড়িয়ার ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যাত্রী ও পরিবহন খাত উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, আগে বিকল্প টার্মিনাল পুরোপুরি প্রস্তুত করে এরপর স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বাস মালিকদের দাবি, ফুলবাড়িয়া টার্মিনালকেন্দ্রিক অসংখ্য শ্রমিক বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কাউন্টারকর্মী, হেলপার ও সংশ্লিষ্ট অনেক শ্রমিক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এছাড়া গুলিস্তান থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সরকারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি করেন পরিবহন মালিকরা। তারা জানান, ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা অনেক বাস এখন পর্যাপ্ত ট্রিপ না পাওয়ায় অলস পড়ে রয়েছে। এতে পরিবহন মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পরিবহন শিল্প ও সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ বিবেচনায় ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল থেকে পুনরায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃজেলা বাস চলাচল চালুর জন্য সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টরা।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১