• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন

পিবি রেশিও নিয়ে আতঙ্ক নয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

সম্প্রতি ‘বিএসইসি (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া সংশোধনী প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ওই বিধিমালায় নতুন করে যুক্ত হওয়া ‘পিবি রেশিও’ (প্রাইস টু বুক ভ্যালু) নিয়ে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে প্রস্তাবনায় বিমা খাতকে মার্জিন ঋণ সুবিধার বাইরে রাখার গুঞ্জন উঠেছে। এতে পুরো বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপকভাবে দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘পিবি রেশিও’ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। আলাপকালে তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে এই পরামর্শ দেন।

মাসুদ খান বলেন, আমরা প্রথমে যখন কোনো পরিবর্তন দেখতে পাই, তখন সেটি না বুঝতে পেরে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে যাই। মূল্য-আয় অনুপাত বা ‘পিই রেশিও’ আদিকাল থেকে চলে এসেছে এবং এটি সবার কাছে পরিচিত। কিন্তু ‘পিবি রেশিও’ নামটা নতুন শুনে তারা বুঝতে পারছে না, অথচ এটিও একটি ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস। তিনি জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি খসড়া মতামতের জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। মতামত নেওয়ার পর আপনারা যখন ফাইনাল বিধিমালাটি দেখতে পাবেন, তখন বুঝতে পারবেন আমরা কী সিদ্ধান্ত নিলাম।’

প্রস্তাবিত ‘পিবি রেশিও’-তে কী আছে?

সংশোধিত মার্জিন বিধিমালার প্রস্তাবে বিএসইসি ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘পিই রেশিও’ এর বদলে ‘পিবি রেশিও’ বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির প্রস্তাবে বলা হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই ‘পিবি রেশিও’ ৩ (তিন)-এর অধিক হলে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। আর বিমা কোম্পানির জন্য ‘পিবি রেশিও’ যদি ১ (এক)-এর অধিক হয়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিমা কোম্পানির ‘পিবি রেশিও’ গণনার এর তারতম্যের ফলে পুরো বাজারে বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে নেতিবাচক আতঙ্ক ছড়ায়। এই প্রস্তাবনার আলোকে নির্ধারিত দিনে কোনো বিমা কোম্পানির শেয়ারমূল্য যদি সর্বশেষ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যের (এনএভিপিএস) তুলনায় বেশি হয়, তাহলে ওই শেয়ারে মার্জিন সুবিধা পাওয়া যাবে না। এই হিসাবে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৮টি বিমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবল ৭-৮টি প্রতিষ্ঠান মার্জিন ঋণের সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে পারে। বাকি ৫০টির বেশি বিমা কোম্পানি মার্জিন সুবিধার বাইরে থেকে যাবে।

অন্যদিকে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘পিবি রেশিও’ ৩ (তিন) হওয়ায় অবশ্য তেমন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। কেননা, নির্ধারিত দিনে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদর যদি শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যের তিনগুণ পর্যন্তও থাকে, সেক্ষেত্রেও মার্জিন সুবিধা পাওয়া যাবে। অথচ, দীর্ঘ লোকসান ও খেলাপিতে ডুবতে যাওয়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগের শেয়ারদর এনএভিপিএস-এর কাছাকাছি রয়েছে। ফলে অন্যান্য শর্তে না আটকালে ‘পিবি রেশিও’-এর কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মার্জিন ঋণ পেতে কোনো ধরনের বাধা থাকবে না।

বাজারে কেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়লো

গত ১৪ জুলাই বিএসইসির ১০২০তম কমিশন সভায় মার্জিন বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাবটি (খসড়া) অনুমোদনের পর থেকেই বাজার নেতিবাচক আচরণ শুরু করেছে। এতে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ২০০ পয়েন্ট থেকে ৬ হাজার পয়েন্টের ঘরে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে এসে নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। বাজার নিম্নমুখী অবস্থানে বাঁক নেওয়ার পেছনে ‘পিবি রেশিও’ প্রস্তাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ গত সপ্তাহে (১৯-২৩ জুলাই) ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৯৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে নেমেছে। সূচকের এই পতনে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ভূমিকা ছিল বিমা খাতের শেয়ারগুলোর। গত সপ্তাহজুড়ে তালিকাভুক্ত ৫৮টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ৫৪টিরই দাম কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৪টির দাম। এই খাতের নেতিবাচক প্রভাবে পুরো শেয়ারবাজারের চাঙাভাব মন্দায় রূপ হয়েছে।

পর্যালোচনার আশ্বাস

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, যেহেতু মার্কেট এটি বুঝতে পারছে না অথবা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। অর্থাৎ মার্কেটে এটির জন্য একটা বড় নেতিবাচক প্রভাব এসেছে, সেহেতু অবশ্যই আমরা এটিকে রিভিউ (পর্যালোচনা) করব। কোনো কিছু বুঝতে না পারলে সেটি যখন কার্যকর হয়, তখন ‘হিতে বিপরীত’ হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কমিশন মার্কেটবান্ধব, তাই বিনিয়োগকারীদের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না। শুধু এটিই নয়, আরও যদি কোনো বিষয়ে যুক্তিযুক্ত আপত্তি আসে, সেগুলোও আমরা রিভিউ করব।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১