নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে চাল বিতরণ শুরু করেছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ কার্ডধারী পরিবার ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে। প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা।
সোমবার (৩ আগস্ট) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার ৫৫ লাখ উপকারভোগী চলতি বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং আগামী বছরের মার্চ ও এপ্রিল এই ছয় মাস খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল পাবেন।
এতে আরো বলা হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অপুষ্টি মোকাবিলা এবং বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টির উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমানে ২৪৮টি উপজেলায় প্রায় ২৫ লাখ ২৯ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে পুষ্টিচাল (ফর্টিফায়েড রাইস) বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া, ২৪৭টি উপজেলায় ২৯ লাখ ৭১ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে সাধারণ চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ১০৮টি ওএমএস কেন্দ্র (দোকান ও ট্রাক) থেকে নিয়মিতভাবে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি গুদামে মোট খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ মেট্রিক টন এবং ধান (চালে রূপান্তরিত হিসাবে) ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপুষ্টি হ্রাস এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর ও সম্প্রসারণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।