• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন

তোষামোদমুক্ত রাজনীতিই সুশাসনের চাবিকাঠি

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
আপডেট: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ আজকে আলোচনা করব রাজনীতি কলুষিত কেন তোষামোদকারীদের জন্য এবং সরকারি সিদ্ধান্তে অনিয়ম। আর এই প্রভাব বলায় থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে। আপনারা সাথেই থাকুন।

একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থায় চাটুকারিতা, এজেন্সি-নির্ভরতা এবং কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত হয়ে জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা যেকোনো সরকারপ্রধানের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

সরকারপ্রধানের সুদৃঢ় সদিচ্ছা থাকলে এবং তিনি নীতিগত সিদ্ধান্তে অটল থাকলে এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।

​সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করার জন্য একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:

​১. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং মুক্ত চর্চা
​তোষামোদি সংস্কৃতির ইতি টানা:

সরকারি ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগ, পদোন্নতি এবং সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্য বা তোষামোদির পরিবর্তে ‘মেধা, অভিজ্ঞতা ও সততা’কে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা।

​এজেন্সি ও গোয়েন্দা কাঠামোর সংস্কার:

প্রশাসনিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গোয়েন্দা সংস্থা বা এজেন্সির অপব্যবহার বন্ধ করা। এজেন্সিগুলোর কাজকে শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমিত রাখা এবং তাদের কার্যক্রম আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা।

​২. স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন
​দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন:

দুদককে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, যাতে সরকারি দল বা বিরোধী দল—উভয় পক্ষের দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

​স্বাধীন বিচারবিভাগ ও গণমাধ্যম:

বিচারবিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের ওপর থেকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ চাপ অপসারণ করা, যাতে সুস্থ সমালোচনা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চর্চার পরিবেশ তৈরি হয়।

​৩. জনবান্ধব নাগরিক সেবা ও ডিজিটাল স্বচ্ছতা
​সিটিজেন চার্টার ও ডিজিটাল সেবা:

সরকারি দফতরগুলোতে নাগরিক সেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করা, যাতে সাধারণ মানুষকে সেবার জন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা চাটুকার গোষ্ঠীর দ্বারস্থ হতে না হয়।

​পাবলিক হিয়ারিং বা গণশুনানি:

মন্ত্রী, এমপি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য নিজ নিজ এলাকায় নির্দিষ্ট সময় পরপর বাধ্যতামূলক গণশুনানির ব্যবস্থা করা, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের অভিযোগ জানাতে পারবে।

​৪. অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি
​পেশাদার উপদেষ্টা গঠন:

রাজনৈতিক চাটুকারদের এড়িয়ে সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং বিষয়ভিত্তিক নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক ‘উপদেষ্টা প্যানেল’ গঠন করা।

​মুক্ত আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখা:

সরকারের গৃহীত নীতির গঠনমূলক সমালোচনাকে দমন না করে স্বাগত জানানো এবং বিরোধী মতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করে যৌক্তিক পয়েন্টগুলো গ্রহণ করা।

​৫. স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব বিকাশ
​নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন:

প্রতিটি স্তরে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী ও ক্ষমতাসম্পন্ন নির্বাচন কমিশন গঠন করা, যা রাষ্ট্রযন্ত্রে গণমুখী নেতৃত্বের উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে।

​একটি সরকারপ্রধান যখন তোষামোদকারীদের মিষ্টি কথার চেয়ে জনগণের বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনাকে বেশি প্রাধান্য দেন এবং ব্যবস্থার (system) প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে হাত দেন, তখনই কেবল ব্যক্তি-নির্ভরতার উর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র একটি স্থায়ী সেবামূলক কাঠামো লাভ করে।
আপনাদের সচিন্তে তো মতামত প্রকাশ করুন।
ধন্যবাদ সবাইকে এতক্ষন সাথে থাকার জন্য।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০