• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি)। সংগঠনটি বলেছে, নভেম্বরের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর করতে হবে। নতুন বছরের শুরুতেই বর্ধিত মজুরি শ্রমিকদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষে এসব দাবি জানানো হয়। অবিলম্বে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বাঁচার মতো নিম্নতম মজুরি ঘোষণার দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আইবিসি। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। আইন অনুযায়ী তিন বছর পর মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সংগঠনটির দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। ফলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ করতে হলে এর আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।

আইবিসির ভাষ্য, শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মজুরি বোর্ড গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বোর্ড গঠন না হওয়ায় নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইবিসি জানায়, গত ৪ আগস্ট শ্রমমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আইবিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর ২০১০ সালে তা বেড়ে ৩ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ টাকা, ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকা এবং ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আইবিসির দাবি, গত দুই দশকে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়লেও একই সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে, বর্তমান মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ২০ হাজার ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে বাজারদরও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পোশাক শ্রমিকদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ জরুরি।

আইবিসির মতে, পোশাক শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের রপ্তানি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ সচল রাখতে ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে করোনাকালে ঝুঁকি নিয়ে কারখানায় কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তিন দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে আইবিসি তিন দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো-আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ সম্পন্ন করতে হবে। ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি কার্যকর করতে হবে, যেন শ্রমিকরা জানুয়ারি ২০২৭-এর প্রথম সপ্তাহে ডিসেম্বরের বেতনের সঙ্গে বর্ধিত মজুরি হাতে পান।

সংগঠনটি জানায়, এবার পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, তা নিয়ে আইবিসির একটি টিম পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা শেষে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং গণমাধ্যমকেও তা জানানো হবে।

কর্মসূচি ঘোষণা
দাবি বাস্তবায়নে কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে আইবিসি। আগামী ৪ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল শেষে শ্রমমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া, ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে আইবিসির আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আইবিসির সভাপতি মীর আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুল হক আমিন, সহ-সভাপতি চায়না রহমানসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০