• সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

সবজির বাজারে অস্থিরতা, নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫

ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে যেন হঠাৎ করেই আগুন লেগেছে—এই আগুন জ্বালছে দামের সূচকে, পোড়াচ্ছে সাধারণ ক্রেতার পকেট। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে এখন কোনো সবজি কেনা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দৈনন্দিন বাজার করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন নগরবাসী, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০-৯০ টাকা, টমেটো ১৮০ টাকা, পটল ৮০-৯০ টাকা, বরবটি ১০০-১২০ টাকা, ঝিঙা ও কচুর লতি ৮০ টাকা করে।

বেগুনের বাজারেও বেড়েছে চরম উত্তাপ। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে, আর লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া কাঁচা মরিচ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, চিচিঙ্গা, কাকরোল, ধুন্দুল—সবই ৮০-৯০ টাকার ঘরে। পেঁপে কিছুটা সস্তা, ৩০ টাকা কেজি, তবে অন্যান্য সবজির দাম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।

কেন বাড়ছে দাম?

সবজির এই অস্বাভাবিক দামের পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছেন ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা।

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: জুলাই-আগস্টে বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে খেতের ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

পরিবহন সংকট ও ব্যয়: বৃষ্টির কারণে অনেক মহাসড়কের অবস্থা খারাপ, ট্রাক চলাচলে সময় বেশি লাগছে এবং ভাড়াও বেড়েছে। পথে পথে ‘ফি’ বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে, যা পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে।

৩. রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রভাব: ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টে সরকার পতনের পর সাময়িক সময়ের জন্য চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ছিল, ফলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু পরে এসব আবার ফিরে আসায় বাজারে প্রভাব পড়েছে।

৪. মৌসুমের ফাঁকা সময়: বর্ষা মৌসুমে পুরোনো সবজির মৌসুম শেষ হলেও নতুন ফসল বাজারে আসতে সময় লাগছে। ফলে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

৫. বহুমাত্রিক হাতবদল: কারওয়ান বাজারে পাইকারি দামে আসা সবজি একাধিক হাত ঘুরে খুচরা পর্যায়ে পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপে মূল্য কিছুটা করে বেড়ে যায়।

ভোক্তারা বলছেন কী?

রামপুরার সজিবুল ইসলাম বলেন, “আগে যা কেজিতে কিনতাম, এখন তা ২৫০ গ্রাম বা আধা কেজিতে কিনি। কিছু সবজির দাম শুনলেই ভয় লাগে।”

মালিবাগের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “মাছ, মাংসের দাম বেশি থাকলে আমরা সবজি খেতাম। এখন সবজি খাওয়াও বিলাসিতা মনে হচ্ছে।”

বিক্রেতাদের যুক্তি কী?

বাড্ডার খুচরা বিক্রেতা রমজান আলী জানান, “আগে যেটা ৫০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন পাইকারি বাজারেই সেটা ১০০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। তার ওপর পরিবহন, দোকান ভাড়া, কর্মচারী বেতন—সব মিলিয়ে খরচ বেড়েছে।”

মহাখালীর বিক্রেতা খোরশেদ আলম বলেন, “বৃষ্টিতে অনেক কৃষকের খেত ডুবে গেছে। নতুন সবজি বাজারে আসতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। ফলে আপাতত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।”

সবজির বাজারে এই অস্থিরতা সাময়িক নাকি দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে আবহাওয়া, ফসল উৎপাদন এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর। তবে আপাতত সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যের এই চাপ মাথায় নিয়েই বাজার করতে হচ্ছে, যেখানে একটি লাউ কেনার আগেও হিসাব-নিকাশ করে এগোতে হচ্ছে।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০