বাংলাদেশে ডেইরি খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামীকাল, ১ সেপ্টেম্বর থেকে “বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড” কার্যক্রম শুরু করবে। একইসঙ্গে সরকার ঘোষিত “বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০২৩” কার্যকর হবে এদিন থেকেই।
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা পরবর্তীতে সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আইনের ধারা ১ (২) অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর তারিখটি আইনটি কার্যকর হওয়ার দিন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। অপর প্রজ্ঞাপনে আইনটির ধারা ৪ (১) অনুযায়ী বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠার কথা জানানো হয়েছে, যা একই তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর সরকার ‘বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০২৩’ জারি করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো, মান নিশ্চিতকরণ, বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা আনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমকে কাঠামোবদ্ধ করা।
নতুন এই বোর্ড দেশের ডেইরি শিল্পকে আরও কার্যকর ও সংগঠিত করতে কাজ করবে। এর মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন দুধ উৎপাদন, খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুধ উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে, ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল মন্ত্রিসভায় এই আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।
তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানিয়েছিলেন, এই বোর্ড গঠনের মাধ্যমে দেশে বিজ্ঞানসম্মত গবাদিপশু লালন-পালন, চিকিৎসা সেবা, ও মানসম্পন্ন দুধ উৎপাদনে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ডেইরি পণ্য উৎপাদন বা বিপণনে আগ্রহী সকলকে এই বোর্ডের অধীনে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন ব্যতীত এ ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।
ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে, যার চেয়ারম্যান হবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। বোর্ডের সদস্য সংখ্যা হবে ১৯ জন এবং একটি নিজস্ব তহবিল থাকবে। একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে বোর্ড পরিচালিত হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেইরি খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জনের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে গেল।