• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

কাজের কারণে জুমা ছুটে গেলে কী করবেন

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫

ইসলাম ধর্মে জুমার নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলমানের ওপর ফরজ বা অবশ্যপালনীয় ইবাদত। জুমার দিনটিকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এই দিনের বিশেষ নামাজটির প্রতি কোরআন ও হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে জুমা জামাতে আদায় করতে না পারলে একজন মুসলমানের করণীয় কী, সে বিষয়ে শরিয়তে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি করো। (সুরা জুমা, আয়াত : ৯)

নবী করিম (সা.) জুমার নামাজকে হালকাভাবে না নেওয়ার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত পর পর তিন জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে মোহর এঁটে দেন। (বুখারি, হাদিস : ১০৫২)

তবে শরিয়তে বলা হয়েছে, যুক্তিসঙ্গত ও বৈধ অজুহাত থাকলে জুমার নামাজের বদলে জোহরের নামাজ আদায় করা যেতে পারে। মালিকি মাযহাবের ইমাম এ ধরনের কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা, রাস্তায় অতিরিক্ত কাদা বা প্রবল বৃষ্টি, কারাবন্দি অবস্থা, অত্যন্ত দুর্বলতা বা রোগীর সেবা করা উল্লেখ্য। 

যদি কেউ কাজ বা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে (যা শরিয়ত দ্বারা স্বীকৃত) জুমার নামাজ জামাতে আদায় করতে না পারেন, তাহলে তার জন্য জুমা না পড়ে চার রাকাত জোহর নামাজ আদায় করলে যথেষ্ট হবে। কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—তিনি দ্বীনে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি এবং আল্লাহ কোনো মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।

সুতরাং, কেউ যদি এমন কোনো পরিস্থিতিতে পড়েন যার কারণে জামাতে জুমার নামাজে অংশ নেওয়া অসম্ভব হয়, তবে তার জন্য চার রাকাত জোহর আদায় করে নিতে হবে। তবে এটি কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতেই প্রযোজ্য। কোনো অবস্থাতেই ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজের প্রতি অবহেলা করা বা শুধু জোহর পড়ার উদ্দেশ্যে জুমা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০