• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

দেশের খাঁটি খামারিদের সম্মাননা দেবে ‘প্রাণ দুধ’

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের দুগ্ধশিল্পে বিশেষ অবদান রাখা খাঁটি খামারিদের স্বীকৃতি দিতে ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’ শীর্ষক একটি উদ্যোগ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তরল দুধের ব্র্যান্ড প্রাণ দুধ।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের পুলিশ প্লাজায় এমসিসিআই সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশকে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দুগ্ধশিল্পে নিবেদিত খামারিদের নিরলস পরিশ্রম ও অবদানকে সম্মান জানানো হবে এবং তাদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরে অন্যদেরও এ খাতে আগ্রহী করে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পাবনা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, মাগুরা, কুড়িগ্রাম ও নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত প্রাণ ডেইরির ১২৪টি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র (ভিএমসিসি) থেকে স্পট রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাণ ডেইরির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৬ হাজার তালিকাভুক্ত দুগ্ধ খামারি এ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

দ্বিতীয় ধাপে রেজিস্ট্রেশনকৃত খামারিদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। এই বোর্ড থেকে ১০ জন ‘খাঁটি খামারি’ নির্বাচিত হবেন। চূড়ান্ত পর্বে জুরি বোর্ডের মূল্যায়ন ও ভোক্তাদের ভোটের ভিত্তিতে সেরা তিন খাঁটি খামারি নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচিত তিনজনের জন্য থাকবে সম্মাননা স্মারক ও লাখ টাকা সমমূল্যের পুরস্কার, পাশাপাশি বাকি সাতজনকেও দেওয়া হবে বিশেষ সম্মাননা।

অনুষ্ঠানে ‘প্রাণ দুধ-খাঁটি খামারি সম্মাননা ২০২৬’-এর সম্মাননা স্মারক উন্মোচন করেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা। তিনি বলেন,
“এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুগ্ধশিল্পে অবদান রাখা খামারিদের সম্মানিত করার পাশাপাশি তাদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরা হবে। এতে অন্যরাও গাভি লালন-পালনে আগ্রহী হবেন এবং নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ ভোক্তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার প্রাণ দুধের রয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হবে।”

তিনি আরও বলেন, কৃষক ও খামারিদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। দুগ্ধ উৎপাদন বাড়লে বিদেশ থেকে দুধ আমদানি কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে নারী ও তরুণদের জন্য।

প্রাণ ডেইরির চিফ অপারেটিং অফিসার মাকসুদুর রহমান বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রাণ দুধ দেশের খামারিদের ন্যায্যমূল্য, প্রশিক্ষণ ও ভেটেরিনারি সেবাসহ নানা সহায়তা দিয়ে আসছে। এর ফলে অনেক খামারির জীবনমান ইতিবাচকভাবে বদলেছে। তিনি জানান, একসময় দেশে দুধের বড় অংশ আমদানিনির্ভর থাকলেও বর্তমানে ৬০–৭০ শতাংশ দুধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বড় অগ্রগতি।

বগুড়া থেকে আগত মা–বাবা ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী আবু সাঈদ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, প্রাণের সহযোগিতায় খামার পরিচালনা এখন অনেক বেশি লাভজনক হয়েছে। আগে যেখানে লিটারপ্রতি দুধের দাম ছিল ৩৬ টাকা, এখন সেখানে তিনি সর্বোচ্চ ৬৭ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপ ও প্রাণ ডেইরির বিপণন ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার