রমজান মাসে কয়েকদিন স্থিতিশীল থাকার পর আবারও বাড়তে শুরু করেছে ফলের দাম। আমদানি করা বিদেশি ফলের পাশাপাশি দেশি ফলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। একই সঙ্গে বাজারে নিম্নমানের ফল বিক্রির অভিযোগও করছেন ক্রেতারা।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর পাশের সাভারের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আমদানির ওপর, যার কারণে ফলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকা এবং ব্যবসায়ীদের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের কারণেই বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
সাভারের বৃহত্তম ফলের পাইকারি বাজার বাইপাইলে ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায়। দুই-তিন দিন আগেও যার দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা।
কালো আঙুরের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কয়েকদিন আগে ৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়া এই আঙুর এখন কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫২০ থেকে ৬০০ টাকা। তবে সবুজ বা সাদা আঙুর আগের মতোই ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কমলা ও মাল্টার দামেও কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় এবং মাল্টা ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়। তবে আনারের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। রমজানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কেজি প্রতি আনার বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়।
ফল ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগে ফলের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আবার দাম বাড়ছে। তবে কয়েকদিন পর কিছু ফলের দাম কমতে পারে বলেও আশা করছেন তিনি।
এদিকে রমজানকে কেন্দ্র করে খেজুরের বাজার এখনো চড়া থাকলেও তা স্থিতিশীল রয়েছে। সাভারের বাজারে জাতভেদে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে। সাধারণ জাইদি খেজুর ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, খুরমা খেজুর ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, সুক্কারি খেজুর ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, আজওয়া খেজুর ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকা এবং মেডজুল খেজুর ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খেজুর ব্যবসায়ী মোক্তার জানান, খেজুরের দাম মূলত এর জাত ও আকারের ওপর নির্ভর করে। রমজানের শুরুতে যেমন দাম ছিল, এখনো প্রায় একই রয়েছে। তবে কিছু কিছু খেজুরের দাম সামান্য কমতে শুরু করেছে।
বিদেশি ফলের পাশাপাশি দেশি ফলের দামও বেড়েছে। রমজানের শুরুতে প্রতি হালি বাংলা কলা বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
সবরি কলার হালি রমজানের শুরুতে ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। বর্তমানে প্রতি হালিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সাধারণ মানের চম্পা কলার দামও বেড়েছে। প্রতি হালি কিনতে এখন খরচ হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
পেঁপের দামও বেড়েছে। মাঝারি মানের পাকা পেঁপে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। রমজানের শুরুতে পেঁপের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। তবে বরইয়ের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বরই বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকায়। রোজার আগে এর দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
রমজানে চাহিদা বাড়ায় তরমুজের দামও ঊর্ধ্বমুখী। আকার ভেদে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। ফলে মাঝারি আকারের একটি তরমুজ কিনতে ক্রেতাদের খরচ হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা।
এদিকে বাজারে নিম্নমানের ফল বিক্রির অভিযোগ করছেন অনেক ক্রেতা। তাদের দাবি, অপরিপক্ব ফল বাজারে তুলে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।
ক্রেতা আজাহার মিয়া বলেন, কেজি ৭০ টাকা ধরে ৫৫০ টাকা দিয়ে একটি তরমুজ কিনেছি। বাসায় গিয়ে দেখি ভেতরে সাদা। পুরো টাকাটাই যেন জলে গেল। অনেক ক্ষেত্রেই অপরিপক্ব ফল বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা মফিজুল ইসলাম বলেন, চাল-ডালের বাজারে প্রশাসনের অভিযান দেখা গেলেও সাভারের ফলের বাজারে তেমন নজরদারি নেই। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে প্রতিদিনই দাম বাড়াচ্ছেন।