• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

মতামত

“বাংলাদেশে নব্য ফ্যাসিবাদের ছায়া: গণতন্ত্র নাকি ক্ষমতার নতুন রূপ?”

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম। দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আপডেট: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় পাঠক বৃন্দ আজকে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করব যুগে যুগে ফ্যাসিবাদ আর বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি। সাথেই থাকুন।
ইতিহাসের এক নিষ্ঠুর সত্য হলো—ক্ষমতা মানুষকে অনেক সময় অন্ধ করে দেয়। ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু বলেছিলেন, “যে ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকে, সে তার অপব্যবহার করতে চায় এবং ততক্ষণ পর্যন্ত যায় যতক্ষণ না সে কোনো বাধার সম্মুখীন হয়।” একেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় অনেক সময় ‘ক্ষমতার মদমত্ততা’ বলা হয়।
বাংলাদেশে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নব্য ফ্যাসিবাদের আগমন ঘটেছে কি না, সেটি কোনো একক সিদ্ধান্তে না পৌঁছে কয়েকটি নিরপেক্ষ মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে:
১. ক্ষমতার ভারসাম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা
ফ্যাসিবাদের অন্যতম লক্ষণ হলো বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকে কুক্ষিগত করা। যদি দেখা যায় যে রাষ্ট্রযন্ত্র কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা মতাদর্শের বাইরে কাউকেই সহ্য করছে না, কিংবা ভিন্নমতকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করছে, তবে সেখানে ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখা যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কতটুকু স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, তা একটি বড় প্রশ্ন।
২. ভিন্নমত দমনের প্রবণতা
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ‘আমাদের সাথে নয় মানেই আমাদের শত্রু’—এই নীতি অনুসরণ করা হয়। যদি রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়, গণহারে মামলা দেওয়া হয় বা ডিজিটাল স্পেসে কথা বলার অধিকার সীমিত করা হয়, তবে তা নব্য ফ্যাসিবাদের লক্ষণ হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিরতায় এই ধরনের অভিযোগ সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রায়ই শোনা যাচ্ছে।
৩. জবাবদিহিতার অভাব
গণতন্ত্রের প্রাণ হলো জবাবদিহিতা। যদি কোনো সরকার বা কর্তৃপক্ষ মনে করে তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয় এবং নিজেদের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত ও অভ্রান্ত বলে মনে করে, তবে সেখানে একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতা জন্ম নেয়।
৪. ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি
ফ্যাসিবাদ সাধারণত সমাজকে ‘আমরা বনাম ওরা’—এই দুই ভাগে ভাগ করে ফেলে। এই বিভাজন যখন চরম আকার ধারণ করে এবং এক পক্ষ অন্য পক্ষকে নির্মূল করার ডাক দেয়, তখন গণতন্ত্র বিপন্ন হয়।
উপসংহার:
বাংলাদেশে একটি দীর্ঘস্থায়ী কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর যদি কেবল ‘মুখের পরিবর্তন’ হয় কিন্তু ‘পদ্ধতির পরিবর্তন’ না হয়, তবে সেই একই চক্র পুনরায় আবর্তিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অনেকের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে এক ধরনের রূপান্তরকালীন সংকট চলছে। এটি কি প্রকৃত গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা, নাকি পুরাতন ফ্যাসিবাদের নতুন মোড়কে আবির্ভাব—তা নির্ভর করবে আগামী দিনের নির্বাচন, বাকস্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের প্রকৃত প্রয়োগের ওপর। আপনি যদি চারপাশের পরিস্থিতির দিকে তাকান, তবে দেখবেন যে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং প্রতিশোধের রাজনীতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের এই ভয় পুরোপুরি দূর হওয়া কঠিন।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১