দেশে এখনো কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, ব্যাংক ঋণের তুলনায় বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে খরচ বেশি এবং সময়ও দীর্ঘ হওয়ায় দেশের বন্ড বাজার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নত হয়নি।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত ‘সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, টেকসই বন্ড (সাসটেইনেবল বন্ড) বাজার গড়ে তুলতে হলে আগে দেশের প্রচলিত বন্ড বাজারকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। বর্তমানে সেই ভিত্তি এখনো তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কার্যকর বন্ড বাজারই নেই। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক) ছাড়া অন্য কোনো বন্ড লেনদেন হয় না। এটাই বর্তমান বাস্তবতা।”
মাসুদ খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশে বন্ড বাজার গড়ে তোলার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তা বাস্তবায়ন হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, কেন দেশের বন্ড বাজার সক্রিয় হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে সাধারণত নির্দিষ্ট খরচে কয়েক মাসের মধ্যেই অর্থ পাওয়া যায়। কিন্তু বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগে এবং খরচও তুলনামূলক বেশি হয়। তাই বন্ড ইস্যুর সময় কমানো এবং অর্থ সংগ্রহের খরচ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের খরচ যদি ব্যাংক ঋণের চেয়ে কম করা যায়, তাহলে বাজারে এর চাহিদা বাড়বে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”
দেশের শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বাজারে এখনো অধিকাংশ বিনিয়োগকারী খুচরা পর্যায়ের। অনেক বিনিয়োগকারী কোম্পানির মৌলিক তথ্য বিশ্লেষণ না করেই অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে শেয়ার কিনছেন।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি, যাতে তারা গুজবের পরিবর্তে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে বিনিয়োগ করেন।
করপোরেট গভর্ন্যান্স বিষয়ে মাসুদ খান বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো করপোরেট গভর্ন্যান্স চর্চা করে, তারাই বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গা তৈরি করে। তিনি বলেন, স্বাধীন পরিচালকদের (ইনডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর) ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হলেও বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে এটি এখনো শুধু আইনি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক স্বাধীন পরিচালক বোর্ড সভায় কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, টেকসইতা এখন আর শুধু আলোচনার বিষয় নয়, বরং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের মূল কার্যক্রমের অংশ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময়ে দায়িত্বশীল ব্যবসা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ভিত্তি হয়ে উঠবে।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তারা অংশ নেন।