• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন

মতামত

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশিরা কেন মালয়েশিয়াকে পছন্দ করতে পারে?

লেখক: সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী, সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ, মালয়েশিয়া ও  ইয়ুথ কানেক্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।
আপডেট: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার একটি ভালো গন্তব্য হতে পারে। কারণ, পশ্চিমা অনেক দেশের তুলনায় এখানে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচ কম। একই সঙ্গে দেশটির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের পড়াশোনা, গবেষণা এবং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে সহজ। সেজন্য অনেকে মালয়েশিয়াকে উচ্চশিক্ষার জন্য নির্বাচন করেন।  

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো এখানকার পরিচিত পরিবেশ। মালয়েশিয়া একটি মুসলিমপ্রধান দেশ। তাই প্রায় সব ধরনের হালাল খাবার খুব সহজেই পাওয়া যায়। বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি, আরবিয়ান, তুর্কি, মালয়, চাইনিজসহ বিভিন্ন দেশের হালাল খাবার এখানে পাওয়া যায়। মসজিদ, নামাজের জায়গা এবং ধর্মীয় পরিবেশ থাকায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের মানিয়ে নিতে খুব বেশি সমস্যা হয় না।

তবে মালয়েশিয়া শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি ভালো ও স্বস্তিদায়ক দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। অমুসলিম শিক্ষার্থীরা নিজেদের ধর্ম পালন, পছন্দের খাবার খাওয়া এবং নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবনযাপন করার সুযোগ পান। দেশটিতে মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ও রয়েছে।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় মালয়েশিয়া বেশ নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব একটি দেশ। এখানকার জীবনযাপন, আবহাওয়া, খাবার, পোশাক, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অনেক কিছুই বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে যায়। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে ভালোবেসে মালয়েশিয়াকে “প্রিমিয়াম বাংলাদেশ” বলি। কারণ, এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, আবার একই সঙ্গে দেশের মতো পরিচিত পরিবেশও অনুভব করা যায়।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার দূরত্বও খুব বেশি নয়। নিয়মিত সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে এবং দুই দেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র দুই ঘণ্টা। ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সহজ এবং জরুরি প্রয়োজনে তুলনামূলকভাবে দ্রুত দেশে যাওয়া যায়।

মালয়েশিয়া একটি বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি ভিন্ন দেশের মানুষ, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পেশাগত নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন।

মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য কী ধরনের সুযোগ রয়েছে?

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ায় মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ ও গবেষণা সহায়তার সুযোগ খুঁজতে পারেন। যেমন Malaysian International Scholarship বা MIS, Malaysian Technical Cooperation Programme বা MTCP Scholarship এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কলারশিপ।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার বিষয় এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতার ভিত্তিতে টিউশন ফি কমানো বা স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডির শিক্ষার্থীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকল্পের অধীনে মাসিক ভাতা পেতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পে Research Assistant বা RA হিসেবে কাজ করার সুযোগও থাকতে পারে। কিছু বিভাগে Teaching Assistant হিসেবে শিক্ষককে ক্লাস, ল্যাব বা শিক্ষার্থীদের কাজ মূল্যায়নে সহায়তা করার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এসব সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ, সুপারভাইজারের গবেষণা তহবিল এবং প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় বা সম্ভাব্য সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো।

মাস্টার্সের জন্য কোন ধরনের প্রোগ্রাম নির্বাচন করা উচিত?

মালয়েশিয়ায় সাধারণত তিন ধরনের মাস্টার্স প্রোগ্রাম রয়েছে।

Coursework Master’s: এখানে নিয়মিত ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও পরীক্ষা থাকে। যাঁরা চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য এটি ভালো হতে পারে।

Research Master’s: এখানে একজন সুপারভাইজারের অধীনে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করে থিসিস লিখতে হয়। ভবিষ্যতে পিএইচডি করতে চাইলে এই ধরনের মাস্টার্স বেশি উপকারী।

Mixed-mode Master’s: এখানে ক্লাস ও গবেষণা—দুটিই থাকে। যাঁরা পড়াশোনা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা একসঙ্গে নিতে চান, তাঁরা এটি বেছে নিতে পারেন।

প্রোগ্রাম নির্বাচনের আগে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আগ্রহ, সময়, খরচ এবং গবেষণার ইচ্ছা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সুপারভাইজার নির্বাচন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

মাস্টার্স বা পিএইচডির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ভালো সুপারভাইজার নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থীর গবেষণার বিষয় এবং সুপারভাইজারের কাজের ক্ষেত্র কাছাকাছি হওয়া প্রয়োজন।

আবেদন করার আগে সম্ভাব্য সুপারভাইজারের গবেষণার বিষয়, প্রকাশিত গবেষণাপত্র, চলমান প্রজেক্ট এবং তিনি আগে কোন ধরনের শিক্ষার্থীকে তত্ত্বাবধান করেছেন—এসব দেখে নেওয়া ভালো।

সুপারভাইজারকে ই-মেইল করার সময় নিজের পরিচয়, পড়াশোনার বিষয়, গবেষণার আগ্রহ এবং কেন তাঁর অধীনে কাজ করতে চান, তা সংক্ষেপে লিখতে হবে। সঙ্গে সিভি ও ছোট একটি গবেষণা প্রস্তাবনা দেওয়া যেতে পারে।

মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে?

বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নির্বাচন

প্রথমে নিজের পছন্দ, যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সঙ্গে মিল রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম নির্বাচন করতে হবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং দেখলে হবে না। প্রোগ্রামটি স্বীকৃত কি না, পড়াশোনার মান কেমন, মোট খরচ কত এবং ইন্টার্নশিপ বা গবেষণার সুযোগ রয়েছে কি না, তা দেখতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—পাসপোর্ট, একাডেমিক সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট, সিভি, রিকমেন্ডেশন লেটার, ইংরেজি দক্ষতার সার্টিফিকেট (IELTS Academic,TOEFL iBT, Linguaskill, Duolingo English Test ইত্যাদি) , গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামের জন্য রিসার্চ প্রপোজাল, পাসপোর্ট সাইজের ছবি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে কাগজপত্র ও যোগ্যতার নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে আবেদন করা উচিত।

Education Malaysia Global Services (EMGS) 

EMGS হলো মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Higher Education Malaysia) কর্তৃক নিযুক্ত একটি সরকারি সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি-পরবর্তী সকল শিক্ষা-সংক্রান্ত ইমিগ্রেশন ও ভিসা প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। EMGS শিক্ষার্থীদের Student Pass (স্টুডেন্ট ভিসা) আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, মেডিকেল স্ক্রিনিং, স্বাস্থ্যবীমা, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অনুমোদন এবং আবেদন অগ্রগতির অনলাইন ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে। এর মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ, দ্রুত এবং কার্যকর করে তোলা, যাতে তারা নির্বিঘ্নে তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করতে পারে। 

ভিসা প্রসেসিং

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাওয়ার পর স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট, একাডেমিক কাগজপত্র, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

ভিসার কাজ সময় নিয়ে করা ভালো। কোনো কাগজে ভুল থাকলে বা পাসপোর্টের মেয়াদ কম থাকলে ভিসা পেতে দেরি হতে পারে।

আবাসন ও খরচের পরিকল্পনা

বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল, স্টুডেন্ট আবাসন অথবা ক্যাম্পাসের কাছাকাছি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা যায়। কুয়ালালামপুর ও সেলাঙ্গরের কিছু এলাকায় বাসাভাড়া বেশি হতে পারে। অন্য শহরে তুলনামূলক কম খরচে থাকা সম্ভব।

শুধু টিউশন ফি নয়, বাসাভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, যাতায়াত, চিকিৎসা, বিমা এবং ভিসা নবায়নের খরচও আগে থেকে হিসাব করা দরকার।

মালয়েশিয়ায় একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মানিয়ে নেওয়া কতটা সহজ?

মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অনেকটাই বাংলাদেশের মতো। সারা বছর গরম থাকে এবং নিয়মিত বৃষ্টি হয়। তাই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাধারণত বেশি সমস্যা হয় না।

এখানকার মানুষও সাধারণত ভদ্র ও সহযোগিতাপূর্ণ। ইংরেজি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়, দোকান, হাসপাতাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়। তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সাধারণ মালয় শব্দ শিখে নিলে আরও সুবিধা হয়।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, মসলা, মাছ, সবজি ও পরিচিত অনেক পণ্য সহজেই পাওয়া যায়। রমজান, ঈদ ও অন্যান্য ধর্মীয় পরিবেশও বাংলাদেশের মতোই অনুভব করা যায়। এ কারণে নতুন শিক্ষার্থীরা খুব বেশি একাকিত্ব অনুভব না করে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন।

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করা যায় কি?

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়ায় কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ইচ্ছামতো নিয়মিত চাকরি করা যায় না। তাই পার্টটাইম কাজ করে সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচ চালানো যাবে—এমন পরিকল্পনা নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসা ঠিক নয়। আসার আগে পড়াশোনা ও থাকার খরচের ব্যবস্থা রাখা উচিত।

পড়াশোনার সময় ক্যারিয়ারের জন্য কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?

মালয়েশিয়ায় পড়তে এসে শুধু ক্লাস ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। নিজের যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজিতে কথা বলা ও লেখার ক্ষমতা, প্রেজেন্টেশন, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ক্যারিয়ার ফেয়ার, কনফারেন্স ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। এতে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং পেশাগত যোগাযোগ তৈরি করার সুযোগ হয়।

ইন্টার্নশিপের সুযোগ থাকলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। LinkedIn-এ একটি ভালো প্রোফাইল তৈরি করে নিজের শিক্ষা, গবেষণা, প্রজেক্ট, স্বেচ্ছাসেবী কাজ এবং দক্ষতা যোগ করলে চাকরি খোঁজার সময় সুবিধা পাওয়া যায়।

পড়াশোনা শেষে মালয়েশিয়ায় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ কেমন?

মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা শেষে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, গবেষণা ও ডিজিটাল খাতে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন রয়েছে।

তবে বিদেশিদের জন্য চাকরি পাওয়া সব সময় সহজ নয়। অনেক চাকরিতে মালয়েশিয়ার নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একজন বিদেশিকে নিয়োগ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ওয়ার্ক পারমিট বা Employment Pass-এর ব্যবস্থা করতে হয়।

যারা পড়াশোনার সময় ইন্টার্নশিপ করেন, ভালো যোগাযোগ তৈরি করেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করেন এবং ইংরেজিতে ভালোভাবে যোগাযোগ করতে পারেন, তাদের চাকরির সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

মালয়েশিয়ার কোন কোন এলাকায় বাংলাদেশিরা বেশি থাকেন?

কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর, জোহর বাহরু, পেনাং এবং মেলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। বিশেষ করে কুয়ালালামপুর ও সেলাঙ্গরে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি বেশি।

এসব এলাকায় বড় বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, গণপরিবহন বেশি রয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি থাকায় নতুন শিক্ষার্থীদের বাসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সুবিধা হয়।

তবে শুধু বাংলাদেশিরা বেশি থাকেন বলে কোনো এলাকা বা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান, নিরাপত্তা, যাতায়াত, খরচ এবং পড়াশোনার পরিবেশকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

মালয়েশিয়ায় পড়াশোনার ক্ষেত্রে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে?

মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষার অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সব বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিক প্রোগ্রামের মান সমান নয়, তাই ভর্তি হওয়ার আগে যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। এছাড়া স্কলারশিপ পাওয়া বেশ প্রতিযোগিতামূলক । কুয়ালালামপুরসহ কিছু শহরে বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হতে পারে। গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজ শেষ করতে নিয়মিত পরিশ্রম ও সময় ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন । পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা আগে থেকেই করা উচিত। ভিসা, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য ইন্সুরেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মেয়াদ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তাই এজেন্ট বা পরিচিত কারও কথার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা উচিত।

শেষ কথা

মালয়েশিয়ায় আধুনিক শিক্ষা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ পরিবেশ এবং তুলনামূলক কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এখানে হালাল খাবার, ধর্মীয় পরিবেশ, বাংলাদেশের মতো আবহাওয়া এবং পরিচিত সংস্কৃতি পাওয়া যায়।

এই পরিচিত পরিবেশ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মিশ্রণের কারণেই আমি ব্যক্তিগতভাবে মালয়েশিয়াকে “প্রিমিয়াম বাংলাদেশ” বলে থাকি। তবে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রাম, মোট খরচ, স্কলারশিপ, ভিসা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সুযোগ ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নিয়ে আসতে পারলে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার একটি ভালো জায়গা হতে পারে।

লেখক: সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী,
সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ, মালয়েশিয়া ও 
ইয়ুথ কানেক্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১