ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১৮ ঘণ্টার উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির প্রথম ব্যাচের জন্য ৫৭৭ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৪১ জন উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছেন। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, গত ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্রের ক্যারাস ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আইডিয়া কম্পিটিশন ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশি ও কোরিয়ান বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের মূল্যায়নের পর ১১০ জন আবেদনকারী পিচিং রাউন্ডের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন। চূড়ান্ত মূল্যায়ন ২২ ও ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়।
কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি বাংলাদেশের সহায়তায় ‘যুব উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন, ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ সেন্টার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
কইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে কিম বলেন, এই প্রকল্পটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোক্তা তৈরিতে তাদের সক্ষমতা জোরদার করতে সাহায্য করবে।
উদ্ভাবন-চালিত উদ্যোক্তা তৈরিতে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা গভীর করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বৃহত্তর উন্নয়ন সহযোগিতা উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে কইকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেন, বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতির জন্য একটি উদ্ভাবন-চালিত উদ্যোক্তা সমাজ গড়ে তোলা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, “আমরা দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে উঠতে দেখতে চাই। আমি এও আশাবাদী যে, আইসিই সেন্টার দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্যোক্তা উন্নয়নের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।”
আইসিই সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রাশেদুর রহমান বলেন, নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা ৩১৮ ঘণ্টার এই কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ, পরামর্শদান, শিল্পখাতে অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ এবং ব্যবসা উন্নয়নে সহায়তা পাবেন। তিনি বলেন, যারা সফলভাবে কর্মসূচিটি সম্পন্ন করবেন, তারা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাগুলোকে টেকসই ব্যবসায় পরিণত করার জন্য ৫৫ লাখ টাকার সিড ফান্ড থেকে অর্থায়নের জন্য প্রতিযোগিতা করবেন। রাশেদুর আরও জানান, কর্মসূচিটির দ্বিতীয় ব্যাচের জন্য আবেদন প্রায় তিন মাসের মধ্যে শুরু হবে। কেন্দ্রটি হ্যাকাথন, বুট ক্যাম্প এবং অন্যান্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনেরও পরিকল্পনা করছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোইকা বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর জুনসু কিম; বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক রত্না বিশ্বাস।
শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞ, প্রকল্পের কর্মকর্তা এবং প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের মধ্যে উদ্যোক্তা শিক্ষা শক্তিশালী করা এবং একটি উদ্ভাবন-চালিত উদ্যোক্তা পরিবেশ গড়ে তোলা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও প্রকল্পটির অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।