• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৭ অপরাহ্ন

সোনালী ব্যাংকের ৫ শাখায় ঋণসীমা তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট ও স্থানীয় শাখার ওপর দীর্ঘদিন ধরে থাকা ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা (লেন্ডিং ক্যাপ) প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর ফলে এখন থেকে এসব শাখা গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা ও প্রকল্পের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ঋণ অনুমোদন করতে পারবে। এতে বড় গ্রাহকদের অর্থায়ন সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঋণসীমা প্রত্যাহারের আওতায় এসেছে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়, ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখা, শিল্প ভবন করপোরেট শাখা, শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ করপোরেট শাখা এবং চট্টগ্রামের লালদীঘী করপোরেট শাখা। এতদিন শাখাভেদে ৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণে সীমাবদ্ধতা ছিল।

সূত্র জানায়, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং ভালো গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ সীমা প্রত্যাহারের আবেদন করে সোনালী ব্যাংক। আবেদন পর্যালোচনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণসীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতীতে বিতর্কিত বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণগ্রহীতাদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান বলেন, “ব্যাংকের বেশিরভাগ বড় ও ভালো গ্রাহক এই পাঁচটি শাখার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ঋণসীমার কারণে তাদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থায়ন করা সম্ভব হতো না। এখন সেই সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ায় যোগ্য গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ দেওয়া যাবে।”

জানা গেছে, ২০০৭ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি শাখায় ঋণ বিতরণে সীমা নির্ধারণ করা হয়। পরে ২০১২ সালের হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকটির ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি আরো কঠোর করা হয় এবং ঋণ বিতরণে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এসব শাখাকে আর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে স্থানীয় কার্যালয় শাখা থেকে আরহাম মাল্টি ট্রেডিংকে ৪০ কোটি টাকা এবং মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠান মুন্নু ফেব্রিকসকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন নিতে হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণসীমা প্রত্যাহারের ফলে সোনালী ব্যাংকের বড় করপোরেট গ্রাহকদের অর্থায়ন সহজ হবে এবং শিল্প ও ব্যবসা খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংককে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে স্থিতিশীল অবস্থানে ধরা হয়।

২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। একই সময়ে আমানতের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা এবং ঋণের স্থিতি ১ লাখ ৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। যদিও হলমার্ক, বেক্সিমকো, থারমেক্স ও ওরিয়ন গ্রুপসহ কয়েকটি বড় ঋণের কারণে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার এখনও প্রায় ১৮ শতাংশ রয়েছে।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১