ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে।
এ দিন বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। ইতোমধ্যে অধিবেশনের প্রথম দিনের কার্যসূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত কার্যসূচিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-১ থেকে প্রকাশিত কার্যসূচি অনুযায়ী, দিনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন এবং শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম দিনের কার্যসূচিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর বিধি-৭১-এর আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।
এদিন বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবও উত্থাপন করা হবে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কৃষি কলেজ স্থাপন, চট্টগ্রামের পটিয়া আদালত ভবন দ্রুত নির্মাণ, নরসিংদীর একটি সড়ক ভৈরব রেলস্টেশন পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে।
কার্যসূচিতে আইন প্রণয়ন কার্যাবলিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনের বিষয়ও রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের জন্য অনুমতি চাইবেন। অনুমতি পাওয়ার পর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করা হবে।
আইনমন্ত্রী ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের জন্যও অনুমতি চাইবেন। প্রস্তাবিত বিলটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আনা হচ্ছে। বিলটি উত্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করা হবে।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের জন্য অনুমতি চাইবেন। গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিকার প্রদান এবং মানবাধিকার, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিলটি আনা হচ্ছে।
অনুমতি পাওয়ার পর বিলটি সংসদে উত্থাপন এবং পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করা হবে।