সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-কে আমাদের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়েত ও আলোর পথপ্রদর্শক করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবায়ে কেরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর আদর্শ অনুসরণকারী সকলের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের কথায় প্রকাশ করার বিষয় নয়; বরং এটি এমন এক ভালোবাসা, যা মানুষের অন্তরে অবস্থান করে এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ, তাঁর উত্তম চরিত্র গ্রহণ, তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ, তাঁর পবিত্র জীবন সম্পর্কে জানা এবং অন্তরে তাঁর মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তিনি ﷺ ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু, সত্যবাদী, উদার ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী। আল্লাহর অনুগ্রহে তাঁর মাধ্যমে আমরা ঈমান, হেদায়েত ও সত্যের পথ সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে, মহানবী ﷺ-এর জন্মস্মরণ এমন একটি উপলক্ষ, যখন মুসলমানরা এই মহান রাসূলের জীবন, তাঁর দাওয়াত, তাঁর উত্তম চরিত্র এবং তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর অসীম দয়া ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করে।
আমরা যখন এই উপলক্ষে তাঁর জীবন সম্পর্কে আলোচনা করি, তাঁর সীরাত পাঠ করি, তাঁর প্রশংসা ও গুণাবলি শুনি, তাঁর চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করি অথবা তাঁর জন্মের স্মরণে আনন্দ প্রকাশ করি, তখন আমরা এটা বলি না যে এই দিনে বিশেষ কোনো নামাজ পড়া ফরজ বা ওয়াজিব, কিংবা এই দিনের জন্য শরিয়ত কোনো নির্দিষ্ট ইবাদত বাধ্যতামূলক বা বিশেষভাবে নির্ধারণ করেছে।
বরং উদ্দেশ্য হলো মহানবী ﷺ-এর জীবনকে স্মরণ করা, মানুষকে তাঁর সীরাত ও আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং যাঁকে আল্লাহ সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন, তাঁর জন্মের স্মরণে আমাদের ভালোবাসা ও আনন্দ…
লেখক: নুরুল কবির হাজী
আজমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত।