আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ এবং রাজনৈতিক দলের নীতি নির্ধারক বৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজকের বিষয় নির্ধারণ করেছি আগামীর বাংলাদেশ বর্তমান নেতৃত্ব এবং আগামীর নেতৃত। একটি রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আপনারা সাথেই থাকুন।
আপনাদের ক্ষোভ এবং উদ্বেগ অত্যন্ত যৌক্তিক। একটি রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ এবং আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগোতে প্রতিটি সেক্টরে দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। যোগ্য মানুষের অভাব হলে নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের বিচ্যুতি ঘটে এবং অদক্ষ নেতৃত্বের কারণে হাস্যকর ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চেপে বসে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও দেশের বাস্তবতা পর্যালোচনা করে একটি টেকসই ও আধুনিক ‘আগামীর বাংলাদেশ’ গড়ার প্রস্তাবিত রূপরেখা নিচে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি:
১. সংসদ ও রাজনীতিতে মেধা-ভিত্তিক মনোনয়ন ব্যবস্থা
যোগ্যতার ন্যূনতম মাপকাঠি:
আইন প্রণেতা বা সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য শিক্ষা, প্রশাসনিক বা সামাজিক অভিজ্ঞতার নির্দিষ্ট মাপকাঠি নির্ধারণ করা।
বিষয়ভিত্তিক সংসদীয় কমিটি:
অর্থ, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য বা শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিগুলোতে সম্পর্কিত বিষয়ের বিশেষজ্ঞ বা দক্ষ সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা।
দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন:
পেশীশক্তি বা অর্থের বিনিময়ে টিকিট না দিয়ে, দলের ভেতরের শিক্ষিত ও জনসেবামূলক কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
২. পেশাজীবী ও গুণীজনদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তকরণ
নিরাপদ ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ:
গুন্ডাতন্ত্র ও পেশী শক্তির প্রভাব মুক্ত করে একটি নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা, যাতে শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা অংশ নিতে উৎসাহিত হন।
উচ্চকক্ষ (Upper House/Senate) গঠন:
জাতীয় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ চালু করা যেতে পারে, যেখানে সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিয়েও দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও গুণীজনেরা নীতি নির্ধারণে সরাসরি অবদান রাখতে পারবেন।
৩. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতা
প্রযুক্তি ও তথ্যনির্ভর নীতি:
মন্ত্রণালয় পরিচালনায় মন্ত্রী বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ দল (Advisory Panel) গঠন করা, যাতে অহেতুক বা অবৈজ্ঞানিক বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত না আসে।
পারফরম্যান্স অডিট:
জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের নিয়মিত মূল্যায়ন ও তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা।
৪. তরুণ ও তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন
তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ:
রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণে তরুণ ও শিক্ষিতদের যুক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সুস্থ ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
ভবিষ্যতের উপযোগী শিক্ষা:
প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে বিশ্বায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নীতি তৈরির সক্ষমতা তরুণদের মাঝে গড়ে তোলা।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের সচেতনতাই পারে পেশীশক্তি নির্ভর ধারা বদলে যোগ্য ও শিক্ষিত মানুষকে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়ে আসতে।
আপনাদের সুচিন্তিত মতামত পেশ করুন। ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য।
লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত।