• বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মিডল্যান্ড ব্যাংক ও সনিকের (বাংলাদেশ) মধ্যে ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট চুক্তি সূচকের পতনে কমেছে লেনদেন ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে জাহাজ বিএসইসি ও বীমা কর্তৃপক্ষের প্রধানদের বয়সসীমা থাকছে না, সংসদে বিল পাস ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান পদে পুনর্নির্বাচিত হলেন আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ সোনার দাম আরও কমলো, ভরি ২৪০৩৩৭ টাকা রক্তপাতহীন বিশ্ব চাই ৯ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, নদীবন্দরে সতর্কবার্তা ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ কমিয়ে আনা এবং ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রেমিট্যান্সে সুবাতাস, এপ্রিলের ২৮ দিনেই এলো ২৯১ কোটি ডলার

ইফতারে ফল কিনতে হিমশিম, রাজধানীতে দামের ঊর্ধ্বগতি

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রমজান মাসের প্রথম দিকেই রাজধানীর ফলের বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। নবম দিনেও তরমুজ কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ কলা, মাল্টা, আপেল, আঙুরসহ প্রায় সব ধরনের ফলই চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাড়তি খরচের চাপে পড়েছে।

শনিবার রাজধানীর নিউমার্কেট ও আজিমপুর এলাকায় বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি অস্থায়ী ফলের দোকানও বসেছে। তবে সবখানেই খুচরা দামে বাড়তি চাপ স্পষ্ট।

দেশি ফলের মধ্যে কলার দাম ডজনপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে চাঁপা কলা ডজন ১০০ টাকা, সবরি কলা ১৬০–১৮০ টাকা এবং বাংলা কলা ১৪০–১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেয়ারা আকারভেদে ১০০–১৫০ টাকা কেজি এবং আনারস প্রতি পিস ৪০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আগাম তরমুজের বাজারও চড়া। মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও বাজারে আসা তরমুজ ৭০–৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ছোট তরমুজ তুলনামূলক কম দামে মিললেও মাঝারি ও বড় আকারের তরমুজের দাম বেশি।

বিদেশি ফলের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মাল্টা ৩১০–৩৪০ টাকা কেজি, আপেল ৩৩০–৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবুজ আঙুর ৪২০–৪৫০ টাকা এবং কালো আঙুর প্রায় ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খেজুর মানভেদে ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

শুধু ফল নয়, ইফতার সংশ্লিষ্ট কিছু সবজির দামও বেড়েছে। লেবুর দাম কয়েক সপ্তাহে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে সাধারণ মানের লেবু ৬০–৮০ টাকা হালি এবং বড় লেবু ৮০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ১০০–১৪০ টাকা কেজি এবং দেশি শসা ৮০–১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহে বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তারা জানান।

নিউমার্কেটের এক ফল বিক্রেতা জানান, তরমুজের মৌসুম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে অন্যান্য ফলের দাম রোজার আগ থেকেই বেশি এবং পুরো মাস জুড়েই তা স্থিতিশীল নাও থাকতে পারে।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়, যা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক ফলের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য ইফতারের প্রয়োজনীয় ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এক দোকানকর্মচারী জানান, গত বছর একই টাকায় যেখানে দুই থেকে তিন ধরনের ফল কেনা যেত, এবার সেই টাকায় একটি ফল কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। আজিমপুরের এক বাসিন্দা বলেন, গত সপ্তাহে যে তরমুজ ৫০ টাকা কেজি ছিল, সেটিই এখন ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার