আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। সম্মানিত নীতি নির্ধারক বৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমার প্রিয় পাঠক বৃন্দ, আপনাদের সুচিন্তিত মতামতের জন্য আপনাদের সামনে আজ আমাদের জ্বালানি সংকট নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনাটি তুলে ধরলাম।
আপনারা সাথেই থাকুন।
বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মূলত বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের নীতিগত দুর্বলতা, অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা এবং গ্রিড অবকাঠামোর ঘাটতির একটি জটিল সম্মিলিত ফল।
সংকটের মূল কারণ ও অন্তর্দৃষ্টি
গ্যাসের স্বল্পতা ও এলএনজি নির্ভরতা:
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি অংশ গ্যাসভিত্তিক। কিন্তু দেশীয় গ্যাসকূপ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ধীরগতি এবং উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত এলএনজি (LNG)-র ওপর অতি-নির্ভরশীলতা সংকটকে বাড়িয়ে তুলেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনের অসামঞ্জস্য:
দেশে ক্ষমতার সাপেক্ষে মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হলেও সঞ্চালন (Transmission) ও বণ্টন গ্রিডের আধুনিকায়ন না হওয়ায় পায়রা, মাতারবাড়ী বা রামপালের মতো বড় কেন্দ্রগুলো থেকে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
ক্যাপাসিটি চার্জ ও আর্থিক চাপ:
বসিয়ে রাখা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও জ্বালানি খাতের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
সংকট নিরসনে টেকসই ও নিরপেক্ষ সুপারিশ :
ঐ
সময়সীমাঅগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ:
প্রত্যাশিত প্রভাব
হ্রস্বমেয়াদি (১–৬ মাস)•
অব্যবহৃত সঞ্চালন সাবস্টেশন ও ট্রান্সফরমার মোবিলাইজেশন।
* নিম্ন প্ল্যান্ট-ফ্যাক্টর ও কম দক্ষতার কেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ।দ্রুত বিদ্যুৎ সঞ্চালন বৃদ্ধি ও জ্বালানি অপচয় হ্রাস।
মধ্যমেয়াদি (৬–২৪ মাস)•
অনশোরে নতুন গ্যাসকূপ খনন নিশ্চিতকরণ।
* শিল্পকারখানায় রুফটপ সোলার ও ভাসমান সোলার স্থাপন।আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস।
দীর্ঘমেয়াদি (২–৫ বছর)•:
অফশোর ও অনশোরে বিস্তৃত গ্যাস অনুসন্ধান।
* আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য (যেমন: নেপাল/ভুটানের জলবিদ্যুৎ) বিস্তৃতকরণ।টেকসই ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জন।
নীতিগত ও আইনি সংস্কার:
গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা, দ্রুত সরবরাহ আইন বাতিল করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র চালু রাখা এবং পেশাদার বিশেষজ্ঞভিত্তিক সমন্বিত জ্বালানি নীতি (Integrated Energy Mix) বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।
আপনাদের কাছে যদি এর বাইরেও কোন পয়েন্ট থাকে অবশ্যই লিখিত আকারে কমেন্টে জানান। ধন্যবাদ সবাইকে এতক্ষন সাথে থাকার জন্য।
লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম,
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।