• শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বিনিয়োগবান্ধব বাজেট গঠনে করের বোঝা কমানোর বিকল্প নেই আম ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন এলাকায় শনিবার ব্যাংক খোলা ইতিবাচক বিকল্প: মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকরী উপায় বাজেট প্রতিক্রিয়া ২০২৬-২৭:চূড়ান্ত বাজেটে তামাক করকাঠামো সংস্কারের আহ্বান সূচকের উত্থানে লেনদেন ১ হাজার ১১০ কোটি টাকা ১০ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর-এ ‘নগদ’ পেমেন্ট কার্গো জট নিরসনে ছুটির দিনেও সেবা চালু রাখার পরিকল্পনা ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী সেবা খাতে দুর্নীতি ও ঘুষের শীর্ষে পাসপোর্ট অফিস, দ্বিতীয় বিআরটিএ

মতামত

বিনিয়োগবান্ধব বাজেট গঠনে করের বোঝা কমানোর বিকল্প নেই

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম, দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ দেশের নীতি নির্ধারক বৃন্দ, আপনাদের চিন্তার খোরাক হিসেবে বাজেট নিয়ে কিছু আলোচনা করব। সাথে থাকবে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট কি করলে অনুপ্রাণিত করা যায়। সাথেই থাকুন আশা করি উপকৃত হবেন।

বাংলাদেশের বাজেট ঘোষণার পর এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং যৌক্তিক একটি বিষয়ে আমি আলোকপাত করার চেষ্টা করছি। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যেখানে আমাদের বৈদেশিক বিনিয়োগ বা এফডিআই (FDI) সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে অতিরিক্ত ট্যাক্সের বোঝা বা ‘যাতাকল’ নিশ্চিতভাবেই বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে।
​আপনারা সিঙ্গাপুর (০%), নেপাল ৫%, শ্রীলঙ্কা (১৫%) বা অন্যান্য দেশের যে তুলনাটি দেখছেন, তা বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিযোগিতায় অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। বাংলাদেশে কার্যকর করের হার (Effective Tax Rate) যখন ডিভিডেন্ট ট্যাক্স, কর্পোরেট ট্যাক্স এবং অন্যান্য পরোক্ষ কর মিলে অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে যায়, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হয়।
​এই সংকটটি সমাধান করে বাজেটকে কীভাবে “ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি” করা যায়, সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতি-নির্ধারণী (Policy Discussion) আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

​নীতি-নির্ধারণী আলোচনা:

এফডিআই বান্ধব কর কাঠামো গঠন।

​১. কর্পোরেট ও ডিভিডেন্ট ট্যাক্সের যৌক্তিকীকরণ (Rationalization of Taxes)
​নীতিগত পদক্ষেপ:

কাগজে-কলমে বাংলাদেশে কর্পোরেট করের হার (তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ২০-২২.৫% এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ২৭.৫-৩০%) দেখতে এশিয়ার গড় হারের কাছাকাছি মনে হলেও, এর সাথে যখন ডিভিডেন্ট ট্যাক্স (১০-২০%) এবং অন্যান্য উৎসে কর (AIT/TDS) যোগ হয়, তখন কার্যকর করের হার অনেক বেড়ে যায়।

​সমাধান:

নীতি-নির্ধারকদের উচিত এই ডাবল-ট্যাক্সেশন বা করের উপর করের প্রভাব কমানো। ডিভিডেন্ট ট্যাক্সের হার কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট ও সহনীয় মাত্রায় (যেমন: সর্বোচ্চ ১০%) আনা এবং কর্পোরেট কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে সহজ করা জরুরি, যাতে বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের লভ্যাংশ সহজে ও কম খরচে নিজ দেশে ফেরত (Repatriation) নিতে পারে।

​২. ট্যাক্স হলিডে এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EZ) সুবিধা কার্যকর করা
​নীতিগত পদক্ষেপ:

হাই-টেক পার্ক বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (BEZA) যে ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়, সেগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে।

​সমাধান:

বিনিয়োগকারীরা যেন কোনো লুকানো কর (Hidden Taxes) বা স্থানীয় শুল্কের মুখোমুখি না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। সিঙ্গাপুরের মতো শতভাগ জিরো-ট্যাক্স হয়তো রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে নির্দিষ্ট স্ট্র্যাটেজিক সেক্টরে (যেমন: ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, বা লুব্রিকেন্টস/ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যালস) প্রথম ৫ থেকে ১০ বছর করের হার সিঙ্গেল ডিজিটে (৫%-৯%) নামিয়ে আনার নীতি গ্রহণ করা যেতে পারে।

​৩. কর ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অটোমেশন এবং স্বচ্ছতা
​নীতিগত পদক্ষেপ:

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উচ্চ কর হারের চেয়েও বেশি ভয় পান কর প্রশাসনের হয়রানি এবং নীতিমালার আকস্মিক পরিবর্তনকে।

​সমাধান:

এনবিআর (NBR)-এর কর আদায় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং ফেসলেস (Faceless) করতে হবে। অগ্রিম আয়কর (AIT) রিফান্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় করা দরকার, কারণ রিফান্ড আটকে থাকলে কোম্পানির ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বা কর্মক্ষম পুঁজি নষ্ট হয়।

​৪. ‘সহজে ব্যবসা করার সূচক’ (Ease of Doing Business) উন্নতকরণ
​নীতিগত পদক্ষেপ:

কর হার যদি ১৫-২০% ও হয়, তাও বিনিয়োগকারীরা আসতে পারেন যদি সেখানে ব্যবসার পরিবেশ চমৎকার হয়।

​সমাধান:

ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (OSS) কে শুধু নামে নয়, কাজেও কার্যকর করতে হবে। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স নবায়ন এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সময় ও খরচ কমিয়ে আনলে উচ্চ করের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়।
​৫. আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার কৌশল
​নীতিগত পদক্ষেপ: ভিয়েতনাম, ভারত বা শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে কর্পোরেট কর কমিয়ে ১৫-২০% এর মধ্যে রাখছে, সেখানে বাংলাদেশকে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

​সমাধান:

একটি ‘জাতীয় বিনিয়োগ নীতি’ প্রণয়ন করা দরকার, যা প্রতি বাজেটে ঘন ঘন পরিবর্তিত হবে না। বিনিয়োগকারীদের অন্তত ৫ থেকে ১০ বছরের একটি স্থিতিশীল কর নীতির নিশ্চয়তা দিতে হবে।

​সারসংক্ষেপ:

বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শুধু অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় (Tax-to-GDP ratio বাড়ানো) দিকে তাকালে চলবে না; বরং রাজস্বের উৎস বা করের ভিত্তি (Tax Base) বাড়াতে হবে। করের “হার” বাড়িয়ে নয়, বরং করের “পরিধি” এবং “বিনিয়োগের পরিবেশ” উন্নত করে রাজস্ব বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ। আমার প্রস্তাবটি অত্যন্ত সময়োপযোগী; বাজেটকে প্রকৃত অর্থেই বিনিয়োগ-বান্ধব করতে হলে এই অতিরিক্ত করের বোঝা কমানোর কোনো বিকল্প নেই। আশা করি সরকার বিষয়টি খুব সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সঠিক ডিসিশন গ্রহণ করবেন।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০