আবহাওয়াজনিত ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাসে ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন উপকূলীয় এলাকা, চট্টগ্রাম এবং তার পার্শ্ববর্তী উজান অঞ্চলে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের ফলে মুহুরী নদী পার্শ্ববর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
রোববার (৩১ আগস্ট) দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রকাশিত পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।
বর্তমানে সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও, আগামী তিনদিন দেশজুড়ে ও উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরদিন একই সময় পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরি, সেলোনিয়া ও গোমতী নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ফেনী জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী পাঁচদিন এই পানি বাড়তে পারে, তবে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা আপাতত নেই।
অন্যদিকে, গঙ্গা নদীর পানির স্তর কিছুটা বাড়লেও পদ্মায় স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিনদিন গঙ্গা-পদ্মা অঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেলেও, পরবর্তী দুদিনে তা স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমেছে এবং এই প্রবণতা আগামী তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুরের দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে, যদিও তিস্তার পানি কিছুটা কমেছে। এসব নদীতে পানি ওঠানামা আগামী কয়েকদিন চলতে পারে।
অবশেষে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের আপার আত্রাই, আত্রাই ও পুনর্ভবা নদীর পানির স্তর কিছুটা বেড়েছে, এবং আপার করতোয়ার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিন এই নদীগুলোর পানি তেমন পরিবর্তন না হয়ে স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।