• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন

মতামত

সামাজিক অবক্ষয়ে নারী ও পুরুষ: আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

রিদওয়ান উল্লাহ খানঁ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক
আপডেট: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

মানুষ জন্মগতভাবে অনুকরণপ্রিয়। একটি শিশুর বেড়ে ওঠা মূলত তার আশেপাশের মানুষদের দেখে—কখনো বাবা, কখনো মা, আবার কখনো কাছের কোনো আত্মীয়কে অনুসরণ করে। তাই প্রশ্ন হলো—আপনার সন্তান কাকে দেখে বড় হচ্ছে? আপনি

কি সে বিষয়ে সচেতন?
যদি আপনার সন্তানের আশেপাশে কেউ মাদকাসক্ত হয়, অসৎ সম্পর্কে লিপ্ত থাকে বা নৈতিকতা-বিবর্জিত জীবনযাপন করে, তবে তার প্রভাব শিশুর উপর পড়বেই। তখন তার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে—এ প্রশ্ন আমাদের সবার সামনে।
আমরা কি আগে এসব বিষয়ে সচেতন ছিলাম না? যদি সচেতনই হয়ে থাকি, তাহলে সমাজে আজ এত খুনি, ধর্ষক, মাদকাসক্ত, চোর-ডাকাত কেন?

শালীনতার প্রশ্নে আমরা কতটা সৎ?
আজকের প্রজন্মের মধ্যে দ্বৈত মানদণ্ড স্পষ্ট। ছেলে-মেয়ে উভয়ের মধ্যেই ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। চায়ের দোকানে বসে তরুণীদের ধূমপান করতে দেখা এখন আর অস্বাভাবিক নয়। পোশাক-পরিচ্ছদেও শালীনতার জায়গায় প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে।

একইভাবে সম্মানবোধও কমে যাচ্ছে। ছোটরা বড়দের সামনে অবাধে ধূমপান করছে, কোনো সংকোচ নেই। কিন্তু তারা কি জন্মগতভাবে এসব শিখেছে? না—আমরাই তাদের শিখিয়েছি। তারা আমাদের আচরণই অনুকরণ করেছে—রাস্তায়, বাজারে, চায়ের দোকানে।

সবচেয়ে বড় অশালীনতা—আমাদের নিজেদের আচরণ
আমরা পুরুষরা কি নিজেদের দিকে তাকাই? জনসম্মুখে যেখানে-সেখানে প্রস্রাব করা—এটি কি শালীনতার মধ্যে পড়ে? একজন নারী যেখানে এটি করতে পারে না, সেখানে আমরা

কীভাবে নির্দ্বিধায় তা করি?
ইসলাম কি শুধু নারীর জন্য পর্দার বিধান দিয়েছে? পুরুষের কি কোনো দায়িত্ব নেই?
আমাদের সন্তানরা লজ্জাশীল হবে কীভাবে, যদি আমরা

নিজেরাই নির্লজ্জ আচরণ করি?
আরেকটি ভয়ংকর সমস্যা—অভিভাবকের অবহেলা
বর্তমানে অনেক বাবা-মা সন্তানের প্রতি প্রয়োজনীয় সময় ও যত্ন দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সন্তানকে সময় দেওয়া বা লালন-পালনকে অনেকেই বোঝা মনে করছেন। ফলে শিশুরা অভিভাবকের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে বিকল্প খুঁজে নিচ্ছে।
সেই বিকল্প হলো—মোবাইল ফোন।

শিশুকে শান্ত রাখার জন্য আমরা তার হাতে তুলে দিচ্ছি মোবাইল। খুব অল্প বয়সেই সে বিভিন্ন অ্যাপস ও অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্টের সাথে পরিচিত হচ্ছে। ধীরে ধীরে এটি আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে এবং তাকে ভুল পথে পরিচালিত করছে।
সমাধান কী?

আমাদের আগে নিজেদের সংশোধন করতে হবে। সন্তানদের সামনে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে হবে। তাদের সময় দিতে হবে, নৈতিকতা শেখাতে হবে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আসুন, আমরা সচেতন হই—এবং একটি শালীন, নৈতিক প্রজন্ম গড়ে তুলি।
জাজাকাল্লাহু খায়ের।

লেখক:
রিদওয়ান উল্লাহ খানঁ
রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০