আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনাদের জন্য আজকের আলোচ্য বিষয় “মা দিবস” আসলে কি মায়ের জন্য একটি দিন বরাদ্দ? নিশ্চয়ই নয়। সেটা নিয়ে কিছু কথা। সাথেই থাকুন।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মা দিবসের ধারণা এবং মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব অত্যন্ত গভীর ও মর্যাদাপূর্ণ। আলোচ্য বিষয়ের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মা দিবস কি শুধু একদিনের জন্য?
ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী, মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন বা তারিখের প্রয়োজন নেই। মা দিবস বছরে কেবল একটি দিন নয়, বরং প্রতিটি দিনই মায়ের জন্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের পরেই বাবা-মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
”আপনার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং বাবা-মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করো।” (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ২৩)
তাই একজন মুসলমানের কাছে প্রতিটি দিনই মাকে ভালোবাসার এবং তাঁর সেবা করার দিন।
২. একজন মুসলমান হিসেবে আপনার আচরণগত বহিঃপ্রকাশ
মা দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে আপনি যদি মাকে শুভেচ্ছা জানান বা উপহার দেন, তাতে কোনো বাধা নেই। তবে আপনার সামগ্রিক আচরণে নিচের বিষয়গুলোর প্রতিফলন থাকা জরুরি:
নিঃশর্ত আনুগত্য: আল্লাহর অবাধ্যতা হয় না—এমন প্রতিটি কাজে মায়ের আদেশ মেনে চলা।
কোমল আচরণ: মায়ের সাথে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর নিচু রাখা এবং কখনো ‘উফ’ শব্দটিও না বলা।
ভরণপোষণ ও সেবা: বিশেষ করে মা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
দোয়া করা: মায়ের জীবিত অবস্থায় এবং মৃত্যুর পর তাঁর জন্য সবসময় এই দোয়া করা—সূরা বনী ইসরাঈলের চব্বিশ নম্বর আয়াত:
”রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা” (হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন)।
পছন্দের জিনিসের মূল্যায়ন: মায়ের ছোট ছোট ইচ্ছা বা পছন্দের জিনিসের প্রতি খেয়াল রাখা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তা পূরণ করা।
৩. সারাজীবনের কৃতজ্ঞতা
মা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মায়ের অবদান অপরিসীম। তবে একজন মুমিনের জন্য এটি একটি সারাজীবনের নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি সদাচরণ পাওয়ার অধিকারী কে? নবীজি (সা.) পরপর তিনবার বলেছিলেন, “তোমার মা।” এরপর চতুর্থবারে বলেছিলেন, “তোমার বাবা।”
সারকথা:
মা দিবসকে কেন্দ্র করে আপনি যদি মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন, তবে সেটি ভালো। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেন আমাদের ভালোবাসা শুধু দিবসভিত্তিক না হয়ে যায়। বছরের ৩৬৫ দিনই যেন মা আমাদের আচরণে অনুভব করেন যে তিনি আমাদের কাছে কতটা মূল্যবান।
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।