দেশে এখন নারী ও শিশুরা চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। সাম্প্রতিক রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে নিষ্পাপ শিশু রামিসার ওপর নির্যাতন ও নির্মম হত্যাকান্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টা ও গলা কেটে শরীর টুকরো টুকরো করে বিভৎস রকমের আচরণ করছে খুনি।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো- গত সাত দিনে রামিসাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মুন্সিগঞ্জে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা! ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা! সিলেটে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা! এই ধরনের ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে শিশু ও নারীদের জন্য আমাদের সমাজ কতটা অনিরাপদ।
সচেতন সমাজ ভাবুন- মানুষের নৈতিকতা, বিবেক আর মানবিকতা আজ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে! কথা ছিল আমরা এই পৃথিবীটাকে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলবো। কিন্তু তার বিপরীতে আমরা দেখতে পাই, চোখের সামনে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্রতিনিয়ত নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন। এই অপরাধীদের থামানোর কোন উপায় নেই! আমাদের রাষ্ট্র, আইন, বিচারব্যবস্থা আছে তবে কি এই ব্যবস্থা নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ?
আমি মনে করি, এই ঘটনার জন্য দায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কারণ রাষ্ট্র কখনোই এমন হত্যার ব্যাপারে কঠোর হস্তক্ষেপ বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। দেশের জনগণ যে কোন শিশু হত্যার কঠিন বিচার বা ফাঁসি দেখতে চেয়েছে। সুতরাং এই হত্যা কান্ডের বিচার প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে। যেন আগামীতে এই ধরনের অপরাধ করতে কেউ সাহস না পায়। আর যদি নামমাত্র সংরক্ষিত কক্ষে মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকর করার পদ্ধতি চালু করা হয় তাহলে অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
তাই সর্বশেষ সরকারের কাছে আবেদন থাকবে- শিশু রামিসা হত্যার দ্রুত শাস্তি কার্যকর করার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা রইলো। মহান আল্লাহ যেন তাদের এই অসহনীয় শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন।
লেখক: মো: মহি উদ্দিন,
সম্পাদক, দ্য ইকোনোমিপোস্ট।