• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন

মতামত

বিদায় হজ্জ ও দ্বীনের পূর্ণতা ঘোষণা

দ্য ইকোনোমিপোস্ট রিপোর্ট
আপডেট: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

সেদিন শুধু কা’বদের ঘরেই আনন্দ ছিল না। আনন্দ ছিল সমগ্র মদিনায়। কারণ মুসলমানরা জানত, তাদের ভাইকে আল্লাহ ক্ষমা করেছেন। কিন্তু সেই দিনটি ছিল মুনাফিকদের জন্য আফসোসের দিন। যারা মিথ্যা বলে নিজেদের রক্ষা করেছিল, তারা বুঝল সত্যবাদীরা জয়ী হয়েছে, আল্লাহর কাছে সম্মান পেয়েছে। 

আর লাঞ্ছিত হয়েছে যারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। সত্য কখনো পরাজিত হয় না। সত্যবাদীরা হয়তো সাময়িক কষ্ট পায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।

মিথ্যা হয়তো কিছুদিন হাসে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপমানিত হয়। এই সময়েই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নীরবে সংঘটিত হলো। তাবুক থেকে ফেরার পথে একদল মুনাফিক গভীর রাতে রাসুলকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা চেয়েছিল পাহাড়ি গিরিপথে তাঁর উটকে ভয় দেখিয়ে নিচে ফেলে দিতে। কিন্তু আল্লাহ তাঁর নবীকে রক্ষা করলেন। ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলো।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাঃ তাঁর বিশ্বস্ত সাহাবি হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.)-কে ডেকে পাঠালেন।

তিনি গোপনে মুনাফিকদের নাম বলে দিলেন।

এক এক করে। সব নাম। সব মুখ। সব পরিচয়।

হুজাইফা (রা.)-এর হৃদয় কেঁপে উঠল।

তিনি জানলেন, কারা বাইরে মুসলমান সেজে আছে কিন্তু ভেতরে ইসলামের শত্রু।

সেই দিন থেকে হুজাইফা পরিচিত হলেন “সিররুন নবী” হিসেবে। নবীর গোপন তথ্যের ধারক।

তিনি কখনো সেই আমানতের খিয়ানত করেননি।

এমনকি খলিফা উমর (রা.) পর্যন্ত হুজাইফাকে জিজ্ঞেস করতেন,রাসূলুল্লাহ কি আমার নামও তাদের মধ্যে বলেছেন?

উমরের মতো মহান ব্যক্তিও নিজের ঈমান নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। কারণ মুমিন কখনো নিজের ঈমান নিয়ে অহংকার করে না।

মুলত তাবুকের অভিযান ছিল এক মোড় পরিবর্তনীয় অভিযান। এর আগে আরবের বহু গোত্র ইসলামের শক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখত। কিন্তু এখন চিত্র বদলে গেছে। যে শক্তির মোকাবিলায় রোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত সতর্ক, তাকে আর অবহেলা করা সম্ভব নয়।

একের পর এক গোত্র মদিনায় প্রতিনিধি পাঠাতে শুরু করল।ইতিহাসে এই বছর পরিচিত হলো “আমুল উফূদ” নামে।প্রতিনিধি দলের বছর। মদিনা তখন যেন মরুভূমির বুকে এক আলোকিত রাজধানী।

উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম থেকে মানুষ আসছে একজন মানুষকে দেখার জন্য। যার হাতে কোনো সোনার রাজদণ্ড নেই। যার মাথায় কোনো রাজমুকুট নেই।

যার প্রাসাদ নেই।যার দেহরক্ষী নেই। কিন্তু যার হৃদয়ে আছে সমগ্র মানবজাতির জন্য ভালোবাসা।

প্রতিনিধি দলগুলো মসজিদে নববীতে প্রবেশ করত।

তারা বিস্ময়ে দেখত।

এই কি সেই ব্যক্তি যিনি আরবকে বদলে দিয়েছেন?

তিনি তো সাধারণ মানুষের মতো মাটিতে বসে আছেন!

তিনি তো নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করেন!

তিনি তো নিজেই ঘরের কাজ করেন!

তারা ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যেত। দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করত।

কিছুদিন আগেও যারা ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল, তারাই আজ কুরআনের ছাত্র হয়ে যাচ্ছে।

মানব ইতিহাসে এমন পরিবর্তন বিরল।

এদিকে সাহাবিদের আনুগত্য ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য।

রাসূলুল্লাহ সাঃ ডাক দিলে তারা ছুটে যেত।তাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল।

তারা ক্ষুধার্ত থেকেছে। তৃষ্ণার্ত থেকেছে। রক্ত দিয়েছে।

ঘর ছেড়েছে। সম্পদ ছেড়েছে। কিন্তু দ্বীন ছাড়েনি।

কারণ তাদের হৃদয়ে জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা ছিল দুনিয়ার চেয়ে বড়। তারা জানত,আজকের কষ্ট চিরস্থায়ী নয়।

আজকের ত্যাগ বৃথা যাবে না। আজকের অশ্রু জান্নাতের হাসিতে রূপ নেবে। তাদের এই ঈমানই ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিল। তারা মনে প্রানে বিশ্বাস করত

মুহাম্মাদ সাঃ -এর আন্দোলন কোনো ক্ষণস্থায়ী জোয়ার নয়।এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সত্যদ্বীন,যে সত্যদ্বীনকে কোনো শক্তি থামাতে পারবে না।

যারাই রাসুলে কাছে আসতেন তারাই মুগ্ধ হয়ে যেতেন এবং বলতেন “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি আল্লাহর রাসূল।”

একটি গোত্র ইসলাম গ্রহণ করলে তার সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করত পুরো অঞ্চল।

একটি পরিবার ইসলাম গ্রহণ করলে তার সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করত অসংখ্য আত্মীয়।

একটি গ্রামের মানুষ ইসলাম গ্রহণ করলে অল্পদিনের মধ্যেই পুরো উপত্যকা মুসলিম হয়ে যেত।

মনে হচ্ছিল মরুভূমির প্রতিটি বালুকণায় যেন কুরআনের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। রাসূলুল্লাহ সাঃ শুধু মানুষকে ইসলাম গ্রহণ করিয়েই থেমে থাকতেন না।

তিনি তাদের শিক্ষা দিতেন।

ইসলাম বুঝাতেন।নামাজ শেখাতেন।যাকাত শেখাতেন।

আখলাক শেখাতেন।তারপর তাদের মাঝে শিক্ষক পাঠিয়ে দিতেন।কারণ তিনি জানতেন, ঈমানকে টিকিয়ে রাখতে হলে জ্ঞান প্রয়োজন।

এই সময় ইয়েমেন,ওমান,বাহরাইন,হাদরামাউত,

নাজরান থেকে প্রতিনিধি দল এল এবং ইসলাম পতাকা তলে সমাবেত হলো। দূর দক্ষিণের পাহাড়ি অঞ্চল থেকেও মানুষ এসে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল।

একদিন মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে একজন সাহাবি চারপাশে তাকিয়ে বিস্মিত হয়ে বললেন,

“আল্লাহর কসম! এমন দিনও আসবে, আমরা কখনো কল্পনা করিনি।”

মাত্র কুড়ি বছর আগে মক্কার একটি ছোট ঘরে শুরু হয়েছিল এই দাওয়াত। আজ সেই দাওয়াত পুরো আরবকে বদলে দিচ্ছে। কিন্তু এই বিজয়ের পেছনে ছিল অগণিত ত্যাগ। ছিল শহিদদের রক্ত,মুজাহিদদের ঘাম, মুহাজিরদের কান্না, আনসারদের আত্মত্যাগ,মায়েদের চোখের জল এবং এতিম শিশুদের দীর্ঘশ্বাস।

ইসলামের এই বৃক্ষ রাতারাতি বড় হয়নি।

এটি বেড়ে উঠেছে রক্তসিক্ত মাটিতে। একে আরো মজবুত করতে ইসলামের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে রাসুলুল্লাহ সাঃ  সাহাবিদের পাঠাতে লাগলেন।

এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মু’আয ইবনে জাবাল (রা.)

জ্ঞানী,বুদ্ধিমান,কুরআনের গভীর জ্ঞানসম্পন্ন তরুণ তিনি। তাকে ইয়েমেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

বিদায়ের মুহূর্তে মদিনার প্রান্তে রাসূলুল্লাহ সাঃ তার সঙ্গে হাঁটছিলেন।

উটের পিঠে ছিলেন মু’আয (রা.)আর রাসূলুল্লাহ সাঃ পায়ে হেঁটে পাশে চলছিলেন। মু’আয (রা.)-এর চোখ ভিজে উঠল। তিনি বললেন,

ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি হাঁটছেন, আর আমি সওয়ার হয়ে আছি?

রাসূলুল্লাহ সাঃ মৃদু হেসে বললেন,

হে মু’আয, হয়তো এ বছরের পর তুমি আমাকে আর দেখতে পাবে না।

এই কথা শুনে মু’আয (রা.)-এর বুক কেঁপে উঠল।

চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। তিনি বুঝলেন না কেন রাসূলুল্লাহ সাঃ এমন কথা বলছেন। আল্লাহর রাসুল

বিদায়ের সময় তাকে উপদেশ দিলেন-

আল্লাহকে ভয় করবে,মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার করবে

কুরআনকে আঁকড়ে ধরবে।

মু’আয (রা.) চলে গেলেন। কিন্তু তার হৃদয় মদিনাতেই রয়ে গেল। এমনই ছিল সাহাবিদের ভালোবাসা।

তারা শুধু একজন নেতাকে ভালোবাসতেন না।

তারা ভালোবাসতেন এমন একজন মানুষকে, যিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোয় এনেছিলেন।

যিনি তাদেরকে মানুষ হতে শিখিয়েছিলেন।

যিনি তাদের হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

আরবের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছে।

যে মরুভূমি একসময় গোত্রীয় হিংসা, রক্তপাত আর প্রতিশোধের আগুনে জ্বলত, সেই মরুভূমিতে এখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কুরআনের তিলাওয়াত।

মানুষ বদলেছে,সমাজ বদলেছে,ইতিহাস বদলেছে।

আর এই বদলানোর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আল্লাহর প্রিয় রাসূল সাঃ।

কিন্তু মহান আল্লাহর নির্ধারিত সময় ধীরে ধীরে নিকটবর্তী হচ্ছিল। দশম হিজরির যিলকদ মাস,একদিন মদিনাজুড়ে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল।রাসূলুল্লাহ সাঃ হজ পালন করবেন।

খবরটি দাবানলের মতো সমগ্র আরব উপদ্বীপে ছড়িয়ে গেল। মানুষের হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ উঠল।

কারণ তারা বুঝতে পারছিল, এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর সঙ্গে হজ করার সৌভাগ্য কি বারবার আসে?

তারা দলে দলে মদিনার দিকে যাত্রা শুরু করল।

দূর পাহাড়ি অঞ্চল থেকে।প্রান্তরের গভীর গ্রাম থেকে।

সমুদ্র উপকূল থেকে।মরুভূমির অন্তহীন বালুকাময় পথ পেরিয়ে বৃদ্ধ,তরুণ,নারী ও শিশুরা ছুটে আসছিল।

সবার হৃদয়ে একই আকাঙ্ক্ষা।

প্রিয় নবীর কাছ থেকে হজের শিক্ষা গ্রহণ করবে তার সঙ্গে আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করবে।

যখন কাফেলা মদিনা থেকে যাত্রা শুরু করল, তখন সেই দৃশ্য ছিল অবর্ণনীয়। যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ।লক্ষাধিক হৃদয় এক ব্যক্তির পেছনে চলেছে। যিনি হলেন রহমাতুল্লিল আলামীন।

দীর্ঘ পথ মাড়িয়ে মক্কার কাচাকাছি এসে উপস্থিত সাহাবীগন,তারা মক্কা নগরী দেখতে পেলেন , খুশীতে চোখ ভিজে উঠল।

এ সেই শহর, যেখান থেকে একদিন তাদের বের করে দেওয়া হয়েছিল। যেখানে তারা নির্যাতিত হয়েছিল।

এ সেই শহর, যেখানে বিলাল (রা.)-এর বুকে পাথর চাপিয়ে রাখা হয়েছিল। যেখানে সুমাইয়া (রা.) শহিদ হয়েছিলেন। আজ সেই শহরই তাওহীদের দুর্গ।

রাসূলুল্লাহ সাঃ কাবাঘরের দিকে তাকালেন।চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার অশ্রু। সত্য বিজয়ী হয়েছে।মিথ্যা পরাজিত হয়েছে।আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছে।

হজের বিভিন্ন কার্যক্রম শেষ ৯ই যিলহজ ঐতিহাসিক দিন

যে দিনের কথা ইতিহাস কখনো ভুলবে না।

সাদা ইহরামের সমুদ্রে পরিণত হয়েছে সমগ্র আরাফার ময়দান। পাহাড়ের ঢাল,উপত্যকার জমিন যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষ।সকলেই অপেক্ষা করছে। প্রিয় নবীর মুখ থেকে শেষ নির্দেশনা শোনার জন্য।

রাসূলুল্লাহ সাঃ তাঁর উট কাসওয়ার পিঠে আরোহন করলেন। তারপর শুরু করলেন সেই ঐতিহাসিক ভাষণ।

যে ভাষণ মানবাধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘোষণাগুলোর একটি।

তিনি বললেন,

হে মানুষ! তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান একে অপরের জন্য পবিত্র।

জাহিলিয়াতের সমস্ত রক্তের দাবি বাতিল করা হলো।

জাহিলিয়াতের সমস্ত সুদ বাতিল।

নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো

কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

অনারবের ওপরও আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

কোনো সাদার ওপর কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

কালোর ওপরও সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই।

শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার মাধ্যমে।

আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।

তা হলো আল্লাহর কিতাব।

সাহাবিদের চোখ ভিজে উঠল।

তারা অনুভব করছিল, কথাগুলোর মধ্যে বিদায়ের সুর আছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাঃ মানুষের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন,আমি কি আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দিয়েছি?

সমস্ত প্রান্তর কেঁপে উঠল।

লক্ষাধিক কণ্ঠ একসঙ্গে উত্তর দিল,

হ্যাঁ! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন।

তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন,আমি কি দায়িত্ব পালন করেছি? সবাই উত্তর দিল, হ্যাঁ! আপনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন তিনি আকাশের দিকে আঙুল তুলে বললেন,হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো। হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো।হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো।

এই দৃশ্য দেখে বহু সাহাবি কান্না চেপে রাখতে পারেননি।

তাদের মনে হচ্ছিল, যেন একজন বিদায়ী মানুষ তার শেষ কথা বলে যাচ্ছেন।

আর সত্যিই তাই ছিল।

আরাফার সেই মহাসমাবেশে নবুওয়াতের মিশন পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।

এর কিছুক্ষণ পর নাযিল হলো মহান আয়াত:

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।”

এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর সাহাবিরা আনন্দিত হয়ে উঠলেন।

কিন্তু একজন মানুষ কাঁদছিলেন। তিনি ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। লোকেরা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল,আপনি কাঁদছেন কেন?

উমর (রা.) বললেন, কোনো কিছু পূর্ণতা লাভ করার পর তার হ্রাস শুরু হয়।

তার হৃদয় বুঝতে পেরেছিল।রাসুল সাঃ এর বিদায়ের সময় নিকটে চলে এসেছে। 

দ্বীন পূর্ণ হয়েছে,মিশন সম্পন্ন হয়েছে।

হজ শেষ হলো,মানুষ ফিরে যেতে শুরু করল।

কিন্তু অনেক সাহাবির হৃদয়ে এক অজানা শঙ্কা বাসা বাঁধল। কেন জানি মনে হচ্ছিল, এ যেন শেষ দেখা।

শেষ সফর,শেষ শিক্ষা,শেষ সমাবেশ।

লেখক: আবু নাঈম মু শহীদুল্লাহ, ইউরোপ।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০