• রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

মতামত

ভূপেনের গানে আজকের বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
আপডেট: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ আজকেই কেন যেন ভূপেন হাজারিকার একটি গান নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করছে। বাংলাদেশের আজকের চিত্রে বেশ খানিকটা মিল খুঁজে পাচ্ছি। চলুন বিষয়টা খতিয়ে দেখি। সাথেই থাকুন।

ভূপেন হাজারিকার ‘মানুষ মানুষের জন্য’ গানটি একই সাথে মানবতার এক চিরন্তন প্রার্থনা এবং আমাদের সমাজের এক নির্মম ব্যবচ্ছেদ। আমি গানের যে লাইনটি উল্লেখ করেছি—”মানুষ মানুষকে পণ্য করে, মানুষ মানুষকে জীবিকা করে”—বর্তমান বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা অত্যন্ত তীক্ষ্ণভাবে সত্যি হয়ে ধরা দেয়।
​আমাদের এই বিষাদগ্রস্ত অনুভূতির সাথে গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে বিষয়টির কিছু বাস্তবিক দিক পর্যালোচনা করা যাক।

​বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রূপ ও গানের মিল
​মানুষকে পণ্য করার প্রবণতা:

বর্তমান বাজারে এবং সামাজিক কাঠামোতে সম্পর্কের চেয়ে স্বার্থ বড় হয়ে উঠেছে। শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া, মানব পাচার, কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা—এগুলো মানুষকে কেবলই ‘পণ্য’ বা মুনাফা লাভের উপায়ে পরিণত করার শামিল।

​মানুষকে জীবিকা করা:

ক্ষমতার রাজনীতি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন দুর্নীতি—সবক্ষেত্রেই দেখা যায় কীভাবে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে একদল মানুষ নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ বা হাহাকার যেখানে অন্যের উপার্জনের বা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম হয়ে ওঠে, সেখানেই ভূপেন হাজারিকার এই চাবুকসম পংক্তিটি হুবহু মিলে যায়।

​প্রতিবাদের ভাষা:

একই সাথে, গানটিতে যে আকুতি রয়েছে, তা কেবল হতাশার নয়—তা বিবেককে নাড়া দেওয়ার। বাংলাদেশে নানা অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের যে সোচ্চার অবস্থান বা সাম্প্রতিক বিভিন্ন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর যে আকুলতা, তাও এই গানেরই অন্য এক পিঠ।

​কবে থামবে এই আহাজারি?
​একটি শোষণহীন, সংবেদনশীল বাংলা গড়ার স্বপ্ন কোনো একক অলৌকিক শক্তিতে হুট করে পূরণ হয় না।
ভূপেন হাজারিকার এই আহাজারি তখনই বন্ধ হতে পারে, যখন সমাজে কয়েকটি মৌলিক পরিবর্তন বাস্তবে রূপ নেবে:

​মানবিক মূলবোধের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা:

কেবল ব্যক্তিপর্যায়ে নয়, দেশের নীতি-নির্ধারণ, বিচারব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে যখন সাধারণ মানুষের অধিকারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

​বৈষম্য হ্রাস ও জবাবদিহিতা:

ক্ষমতা ও সম্পদের বণ্টন যখন সুবিচারপূর্ণ হবে এবং মানুষকে ‘ব্যবহার’ করার সংস্কৃতি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ ও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

​নাগরিক সচেতনতা:

সমাজ যখন নিষ্ক্রিয় দর্শক না থেকে একে অপরের প্রতি সংবেদনশীল হতে শিখবে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
​আপনাদের মতো সংবেদনশীল মানুষেদের মনেও যখন এই প্রশ্নগুলো উঁকি দেয়, তখনই বোঝা যায় যে সমাজের বিবেক এখনো সম্পূর্ণ মরে যায়নি।
এই আহাজারিমুক্ত বাংলা গড়ার পথটি দীর্ঘ, তবে যতক্ষণ এই প্রশ্নগুলো জীবিত থাকবে, ততক্ষণ পরিবর্তনের সম্ভাবনাও জেগে থাকবে।
ধন্যবাদ সবাইকে এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০