• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

মতামত

যুগ শ্রেষ্ঠ স্কলার সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী (র:) পরিচয়

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রফিকুল ইসলাম লিটন, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া।
আপডেট: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুগণ,

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন যুগ শ্রেষ্ঠ একজন ইসলামিক স্কলার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

আল্লামা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী (র:):

তিনি মওদুদী নামেই সুপরিচিত ছিলেন। তিনি একাধারে একজন ইসলামীক স্কলার, ইসলামপন্থী মতাদর্শী, মুসলিম দার্শনিক, আইনবিদ, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, কর্মী এবং গবেষক ছিলেন।
তিনি ব্রিটিশ ভারত এবং পরবর্তীতে দেশভাগের পর পাকিস্তানে সক্রিয় ছিলেন।
উইলফ্রেড ক্যান্টওয়েল স্মিথ তাঁকে “আধুনিক ইসলামের সবচেয়ে সুসংবদ্ধ চিন্তাবিদ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তাঁর অসংখ্য রচনা, যা “কুরআনের ব্যাখ্যা, হাদিস, আইন, দর্শন, ইতিহাসের মতো বিভিন্ন শাখা আবৃত করে।
উনার উর্দুতে লেখা বইগুলো পরবর্তীতে ইংরেজি, আরবি, হিন্দি, বাংলা, তেলুগু, তামিল, কন্নড়, বর্মী, মালয়ালম এবং আরও অনেক ভাষায় অনুবাদ হয়।

তিনি ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং “প্রকৃত ইসলাম” বলতে তিনি যা বুঝেছিলেন তা প্রচার করতে চেয়েছিলেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ইসলাম রাজনীতির জন্য অপরিহার্য এবং শরিয়া প্রতিষ্ঠা করা ও রাশেদুন খলিফাদের শাসনের সময়কার মতো ইসলামিক শাসন, সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা আবশ্যক। ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের মতো পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব থেকে উদ্ভূত অনৈতিকতা পরিত্যাগ করা প্রয়োজন।

ব্যক্তিগত তথ্য:

পিতার নাম: সাইয়েদ আহমদ হাসান,
তিনি পেশায় ছিলেন আইনজীবী।
আল্লামা মওদুদী বংশীয় দিক দিয়ে সাইয়িদুনা হুসাইন শহিদের ৩৬তম উত্তর পুরুষ। তাঁর ২৩তম পূর্বপুরুষ খাজা কুতুব উদ্দীন মওদুদ চিশতি (মৃ.৫২৭ হিজরী) ভারতে চিশতিয়া তরিকার আদি পীর হিসেবে পরিচিত। তাঁর নামানুসারেই এ বংশের লোকজন ‘মওদুদী’ নামে পরিচিত। মওদুদী খান্দানের কয়েক প্রজন্ম বংশ পরম্বরায় দাওয়াত-তাবলীগ ও পীর-মুরশিদির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মাতার নাম: রুকাইয়া বেগম।
মায়ের দিক দিয়ে মাওলানা মওদুদী তুর্কি বংশোদ্ভূত।

জন্ম: ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৩
স্থান: আওরঙ্গাবাদ, মহারাষ্ট্র, হায়দ্রাবাদ, ব্রিটিশ ভারত।

মৃত্যু: ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ (বয়স ৭৫)
স্থান: বাফেলো, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।

ধর্ম: ইসলাম, সুন্নি

বংশ: হুসাইন ইবনে আলী ও মঈনউদ্দিন চিশতীর মাধ্যমে মুহাম্মদ (স:) সরাসরি বংশধর।

ব্যবহারিক গ্রন্থ: কুরআন হাদিস ইজমা।
আন্দোলন: জামায়াতে ইসলামী প্রধান।

পুরস্কার: ইসলাম গবেষণা পরিসেবায় বাদশাহ ফয়সাল পুরস্কার (১৯৭৯) প্রাপ্ত হন।

আল্লামা মওদুদী সাহেবের অবদান সমূহ:

১) ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন।
২) ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মওদুদী এবং জামায়াতে ইসলামী সক্রিয়ভাবে ভারত বিভাগের বিরোধিতা করেছিলেন।
৩) উপমহাদেশ ভাগের পর মওদুদী এবং তাঁর অনুসারীরা ইসলামের রাজনৈতিকীকরণ এবং পাকিস্তানকে একটি ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর জন্য সমর্থন তৈরির দিকে মনোযোগ দেন।
৪) জেনারেল মুহাম্মদ জিয়াউল হককে পাকিস্তানে ইসলামীকরণ প্রবর্তন করতে সহযোগিতা করেছিলেন।
৫) তিনি ১৯৭৯ সালে ইসলামে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সেবার জন্য সর্বপ্রথম সৌদি আরবের কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
৬) তিনি সৌদি আরবের মদিনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় অংশ নিয়েছিলেন।
৭) তিনি পবিত্র কুরআনের তাফসির গ্রন্থ তাফহীমুল কুরআন সহ শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।

কৃতিত্বের মূল্যায়ন:

আল্লামা মওদুদী সাহেব একজন বিশ্ব বরেণ্য আলেম ছিলেন।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ্ খোমেনী ১৯৬৩ সালে আল্লামা মওদুদীর সাথে সাক্ষাত করেন এবং পরবর্তীতে তিনি মওদুদী সাহেবের বইগুলো ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেন।

সুতরাং আল্লামা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী রহ: একজন যুগ শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার ছিলেন এবং সর্বস্তরে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করে গেছেন।
মহান আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন (আমীন)।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রফিকুল ইসলাম লিটন
এমসিএসই, এমবিএ, এমএ (ইসলামিক স্টাডিজ এবং ইংরেজী), কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১