• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো ৭ হাজার ৪৯ কোটি টাকা ডিএসইতে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত, দাম বৃদ্ধির শীর্ষে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৭ কোম্পানি অধিকার প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের ভূমিকা চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম, মরিচের কেজি ২০০ টাকা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদিউর, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান সেলিম রহমান ব্রয়লার ১৮৫ টাকা কেজি হলেও ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৫ শতাংশে নামতে পারে: আইএমএফ মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞা,পশ্চিমবঙ্গে প্রতিবাদে নামছেন প্রায় ১ কোটি মুসলিম বাংলাদেশিসহ বিদেশি সব শিক্ষার্থীর জন্য ভিসায় বড় পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের

মতামত

অধিকার প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের ভূমিকা

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আপডেট: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ আপনাদের উদ্বেগ দেখেছি, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আপনাদের অধিকার সঠিকভাবে উপস্থাপনা না করে আধিপত্যবাদীদের পূজা-অর্চনা করেছে বিগত সরকারগুলো । আজ এর থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা সাথেই থাকুন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সুশাসন নিয়ে আপনাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ অত্যন্ত স্পষ্ট। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকারের ভূমিকা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর চিন্তাভাবনা ও নানা দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন যে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
​এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং একটি শোষণমুক্ত, সার্বভৌম ও সাম্যবাদী সমাজ বা রাষ্ট্র গঠনে নাগরিক ও সামগ্রিক পর্যায়ে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ ভূমিকা রাখতে পারে:

​১. প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও সংস্কার:

​কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রথম শর্ত হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন: বিচার বিভাগ, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তবে যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদ বা দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সহজ হয়।

​২. সচেতন নাগরিক সমাজ (Civil Society) গঠন:

​একটি দেশের সচেতন নাগরিকরাই তার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা, জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো চুক্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও যুক্তিভিত্তিক জনমত গড়ে তোলা এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি।

​৩. টেকসই ও স্বনির্ভর অর্থনীতি:

​পরনির্ভরশীলতা আধিপত্যবাদের পথ সুগম করে। দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সের সঠিক ব্যবহার, দুর্নীতি রোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার মাধ্যমে যদি একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা যায়, তবে বিদেশি কোনো শক্তির অনুচিত হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না।

​৪. তরুণ সমাজ ও নেতৃত্বের বিকাশ:

​তরুণ প্রজন্মকে কেবল দলীয় রাজনীতির অন্ধ অনুসারী না হয়ে দেশের ইতিহাস, ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মেধা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের নীতি নির্ধারণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

​৫. জাতীয় ঐকমত্য (National Consensus):

​জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে একটি ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার সংস্কৃতি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া আবশ্যক।

​সংক্ষেপে:

যেকোনো দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নির্ভর করে তার জনগণের সচেতনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সততার ওপর। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়া এবং নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই নাগরিক হিসেবে সংকটের প্রধান সমাধান। আপনাদের সুচিন্তে তো মতামত পেশ করবেন বলে আশা রাখছি। এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম,
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১