ভারতের চলমান ছাত্র আন্দোলন নীতিগত সংস্কার ও ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের দিকে রূপ নিতে পারে। আবার সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতে আলোচনার টেবিলেও গড়াতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা একে বারেই ক্ষীন।
আন্দোলনটি প্রধানত কয়েকটি সম্ভাব্য দিকে এগোতে পারে-
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি—প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইনি কাঠামোর প্রয়োগ, সেন্ট্রাল বোর্ডের পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট বাৎসরিক পরীক্ষা ও নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। সরকার ইতিমধ্যে পুনঃপরীক্ষা পরিচালনা ও গ্রেপ্তার অভিযানের কথা বললেও শিক্ষার্থীরা স্থায়ী সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।
দিল্লির বিক্ষোভের পর পাঞ্জাবের কৃষক সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী দল শিক্ষার্থীদের সমর্থনে এগিয়ে আসছে। সোনম ওয়াংচুকের মতো পরিবেশবিদ ও অধিকারকর্মীদের অংশগ্রহণে আন্দোলনটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর নাগরিক আন্দোলনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর ধারণা করা হচ্ছে, সরকার দ্রুত কিছু আইনগত পরিবর্তন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ কমার চেষ্টা করতে পারে।
ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর সংহতি প্রকাশের ফলে আন্দোলনটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যা সরকারের ওপর নৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে সাড়া দিয়ে ভারতের সংসদ অভিমুখে যাত্রা করা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে তাঁর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা নয়া দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বসে পড়েন।
অবস্থানে কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদেরা, কে সি বেনুগোপাল, কেরলমের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন ও কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার রয়েছেন। এমন কর্মসূচী দেখতে সামান্য মনে হলেও ঘটনা যে বাংলাদেশের মতো সরকার পতনের দিকে মোড় নেবে না বলা মুশকিল।
লেখক: ফিরোজ আল হুসাইন,
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী ও সাবেক স্টাফ রিপোর্টার রেডিও টুডে