• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

মতামত

স্থিতিশীলতা-অস্থিতিশীলতায় গণমাধ্যমের প্রভাব

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম, দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আপডেট: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় পাঠক বৃন্দ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ। কিভাবে মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম অপারেটর আমাদের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অস্থিতিশীলতায় প্রভাব বিস্তার করে। আজকে সে বিষয়ে কিছু আলোচনা করব। সাথেই থাকুন।

সম্প্রচার মাধ্যম ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক
গণমাধ্যম ও কেবল নেটওয়ার্ক (MSO – Multi System Operator)-এর মাধ্যমে সম্প্রচারিত তথ্য ও সংবাদ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং জনমতে কী প্রভাব ফেলে, তা যোগাযোগ মাধ্যম ও ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনার বিষয়।
এই বিষয়ে প্রধানত দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়:

১. বাহ্যিক প্রচারণার প্রভাব ও ঝুঁকির দিক
জনমত গঠন ও মেরুকরণ:

প্রতিবেশী বা বৈদেশিক গণমাধ্যমের পক্ষপাতমূলক সংবাদ বা একপেশে পরিবেশনা একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অসন্তোষ ও সংশয় তৈরি:

অতিরঞ্জিত বা বিতর্কিত তথ্য প্রচারের ফলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তথ্যযুদ্ধ (Information Warfare):

আধুনিক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে অনেক সময় সফট পাওয়ার (soft power) বা কৌশলগত উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, যা জনমতে প্রভাব ফেলে।

২. অভ্যন্তরীণ কারণ ও কাঠামোগত বাস্তবতার গুরুত্ব
অভ্যন্তরীণ অনুঘটক:

বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষকদের মতে, একটি দেশের অরাজকতা বা অস্থিরতার মূল চালিকাশক্তি সাধারণত অভ্যন্তরীণ—যেমন রাজনৈতিক সংকট, শাসনব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক চাপ এবং সামাজিক অসন্তোষ।

ডিজিটাল যুগের বৈচিত্র্য:

বর্তমানে কেবল কেবল নেটওয়ার্ক (MSO) নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইন্টারনেট ও ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কেবল টেলিভিশন চ্যানেল দিয়ে সম্পূর্ণ তথ্যপ্রবাহ চালিত হয় না।

স্থানীয় মিডিয়ার ভূমিকা:

দেশীয় গণমাধ্যম যদি বস্তুনিষ্ঠ, স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করতে পারে, তবে বাইরের যেকোনো প্রচারণার প্রভাব আপনাতেই কমে যায়।

সারসংক্ষেপ:

আন্তর্জাতিক বা বহিরাগত গণমাধ্যমের প্রভাব দেশের জনমনে একধরনের অনুভূতি তৈরি করতে পারে কিংবা কোনো কোনো পরিস্থিতিতে অনুঘটক (catalyst) হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে দেশের সার্বিক অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বা অরাজকতার জন্য কেবল সম্প্রচার মাধ্যমকে এককভাবে দায়ী করার চেয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামো, সামাজিক পরিস্থিতি এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের আইনি ব্যবস্থার সম্মিলিত ভূমিকা বিবেচনা করা প্রয়োজন। আশা করি নীতি নির্ধারক বৃন্দ বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখবেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য। আপনাদের সুচিন্তিত মতামতের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম,
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১