• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

মতামত

মাদকের ছোবল থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে করণীয়

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
আপডেট: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। প্রিয় যুবসমাজ এবং দেশের নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজকের আলোচ্য বিষয় রেখেছি মাদকের বিষধর ছোবল থেকে যুব সমাজকে কিভাবে বাঁচানো যায়। আপনারা সাথেই থাকুন।

বাংলাদেশের যুবসমাজ এবং মাদকের বিস্তৃতি নিয়ে আপনাদের উদ্বেগ অত্যন্ত তীব্র ও গভীর।

মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা একটি জাতীয় অগ্রাধিকার এবং যেকোনো দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

​এ ধরনের জটিল সমস্যা ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠে যুবসমাজকে রক্ষা করার জন্য একটি পরিকল্পিত ও কার্যকর রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম:

​১. মাদকের জোগান বন্ধ (Supply Reduction) & আইন প্রয়োগ:

​সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার:

বাংলাদেশ মূলত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক পাচারের ট্রানজিট ও গন্তব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সীমান্ত এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি (যেমন- ড্রোন, নাইট-ভিশন ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজিং) ও বিজিবি-কোস্টগার্ডের পাহারা দ্বিগুণ করা প্রয়োজন।

​জিরো টলারেন্স ও গোয়েন্দা নজরদারি:

মাদক সিন্ডিকেট ও এর মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে যৌথ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবকে তোয়াক্কা না করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।

​দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জবাবদিহিতা:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কাস্টমস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (DNC) ভেতরে নজরদারি ব্যবস্থা (Internal Affairs) শক্তিশালী করা, যাতে কোনো অসাধু সদস্য পাচারকারীদের সহায়তা করতে না পারে।

​২. চাহিদা হ্রাস (Demand Reduction) & সচেতনতা বৃদ্ধি:

​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা:

মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী নিয়মিত ওয়ার্কশপ, সেমিনার ও কাউন্সিলিং সেল স্থাপন করা।

​পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ:

অভিভাবকদের সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য, সঙ্গ ও দৈনন্দিন আচরণের প্রতি সতর্ক থাকা। মহল্লায় মহল্লায় যুব ও সমাজকল্যাণমূলক কমিটি গঠন করে মাদকমুক্ত অঞ্চল গড়ে তোলা।

​গণমাধ্যমের ভূমিকা:

নাটক, সিনেমা, শর্ট ফিল্ম ও সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মাদকাসক্তির শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ভয়াবহতা তুলে ধরা।

​৩. তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও কর্মসংস্থান:

​খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা:

প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে খেলার মাঠ উন্মুক্ত করা এবং নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে যুবসমাজকে ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত রাখা।

​দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান:

তরুণদের কারিগরি শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি (IT) প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা, যাতে হতাশাজনিত কারণে কেউ মাদকের দিকে ধাবিত না হয়।

​মানসিক স্বাস্থ্যসেবা:

তরুণদের মানসিক বিষন্নতা ও হতাশা দূর করতে সরকারি হাসপাতালে নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করা।

​৪. চিকিৎসা ও পুনর্বাসন (Harm Reduction & Rehabilitation):

​পুনর্বাসন কেন্দ্রের মান উন্নয়ন:

সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন (Rehab) কেন্দ্রগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে পেশাদার সাইকোলজিস্ট ও চিকিৎসকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা।

​সামাজিক পুনরেকত্রীকরণ:

চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা যুবকদের সমাজে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট সুযোগ তৈরি করা, যাতে তারা পুনরায় অপরাধের জগতে না ফিরে যায়।

​৫. নীতি ও আইনি সংস্কার
​দ্রুত বিচার আদালত:

মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত বিচার আদালতের কার্যক্রম সক্রিয় করা।

​জাতীয় নীতি নির্ধারণ:

সরকারের নীতি নির্ধারণে তরুণ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর মাদকমুক্তকরণ কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।
​একটি জাতিকে মেধা ও দক্ষতায় এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের সুরক্ষা দেওয়া সর্বাগ্রে প্রয়োজন। প্রশাসনিক কঠোরতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, এবং সর্বস্তরের সামাজিক আন্দোলন—এই তিনের সমন্বয়েই কেবল একটি মাদকমুক্ত ও শক্তিশালী যুবসমাজ গঠন করা সম্ভব।
ধন্যবাদ এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল ইসলাম।
দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১