• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

মতামত

এইচএসসির ফলাফলে উদ্বেগজনক পতন: শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এখন সময়ের দাবি

লেখক: ফয়সাল হাবিব
আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার বিদ্যমান সংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। বিপরীতে অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। গত ২২ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। ওই বছর পাসের হার ছিল ৫৭.১২ শতাংশ। এবারের ফলাফল সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল পর্যালোচনা করলে পরিস্থিতির গভীরতা আরও পরিষ্কার হয়। এসব বোর্ডে এবার পাসের হার ৫১.৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের বছর এই হার ছিল ৫৭.১২ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৫.৫ শতাংশ পয়েন্ট। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অবনতি লক্ষ করা গেছে। ২০২৫ সালে ৬৩ হাজার ২১৯ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জন করলেও এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৯৪৮ জনে। এক বছরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৭ হাজারেরও বেশি। এ ধরনের পরিবর্তন নিঃসন্দেহে শিক্ষার মান ও মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন তৈরি করেছে।

বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের দিকে তাকালে ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা বিশেষভাবে নজরে আসে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অধিকাংশ বোর্ডেই বাধ্যতামূলক এই বিষয়ে ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি। সাম্প্রতিক তিন বছরের পাসের হারও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৫.৫৬ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা কমে ৫৭.১২ শতাংশ হয় এবং এবার আরও নেমে এসেছে ৫১.৬২ শতাংশে। এই ধারাবাহিক পতন শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নপদ্ধতি, শিক্ষকদের পাঠদান, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, প্রশ্নপত্রের কাঠামো এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে গভীর পর্যালোচনার দাবি জানায়। তবে ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার পেছনে ঠিক কোন কারণগুলো সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে, তা জানতে পৃথক গবেষণা ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

ফলাফল ঘোষণার পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে প্রদত্ত উত্তরের ভিত্তিতেই ফলাফল তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা যে মানের উত্তর দিয়েছেন, মূল্যায়নেও সেটিই বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু এত বড় সংখ্যায় শিক্ষার্থীর ব্যর্থতাকে শুধু পরীক্ষার খাতা কিংবা নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। এর পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা, পারিবারিক পরিস্থিতি, সামাজিক প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির মতো একাধিক বিষয় জড়িত থাকতে পারে।

এবারের ফলাফলকে কেবল নেতিবাচক হিসেবে দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অর্জন যাচাইয়ের একটি সুযোগ হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত। পরীক্ষার হলে অনিয়ম ও নকলের সুযোগ কমে গেলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রস্তুতি মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়। এ দিক থেকে কঠোর মূল্যায়নকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জমে উঠেছে, সেগুলোর প্রতিও নজর দিতে হবে। মোবাইল ফোন ও অনলাইন গেমে অতিরিক্ত সময় ব্যয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি, পড়াশোনার প্রতি অনাগ্রহ, সহজ পথে ভালো ফল পাওয়ার মানসিকতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব, পরিবারের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে দক্ষ শিক্ষকের অভাব—এসব বিষয় শিক্ষার পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে ২০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান ও ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

এ অবস্থায় প্রচলিত পরীক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা জরুরি। এইচএসসি প্রথম বর্ষেও বোর্ড পরীক্ষা চালুর বিষয়টি একটি সম্ভাব্য সংস্কার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। বর্তমানে দ্বিতীয় বর্ষের শেষে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলের ওপর শিক্ষার্থীর সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। ডিগ্রি ও অনার্স পর্যায়ে বর্ষভিত্তিক পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক ধাপে মূল্যায়নের নজির আছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হতে পারে।

একটি মাত্র চূড়ান্ত পরীক্ষার ওপর পুরো ফলাফল নির্ভর করলে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। পরীক্ষার সময় শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক চাপ কিংবা অনিবার্য কোনো সমস্যার কারণে প্রত্যাশিত ফল না এলে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে পৃথক পরীক্ষা থাকলে শিক্ষার্থীদের অর্জন দুই ধাপে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে। প্রথম বর্ষের পরীক্ষার ফল থেকেই কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পরবর্তী বর্ষে শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে পারবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও প্রথম বর্ষ থেকেই পড়াশোনায় নিয়মিত হওয়ার তাগিদ অনুভব করবে।

তবে এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে অনেক শিক্ষার্থী হতাশ হতে পারে। তাদের মধ্যে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে। আবার বছরে দুটি বোর্ড পরীক্ষা আয়োজন করতে হলে পরীক্ষা পরিচালনা, প্রশ্নপত্র তৈরি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অতিরিক্ত অর্থ ও জনবল লাগবে। বর্তমানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। এ অবস্থায় অতিরিক্ত পরীক্ষার দায়িত্ব সামলানো কতটা সম্ভব, সেটিও বিবেচনা করা দরকার। তাই নতুন পদ্ধতি চালুর আগে পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন ও সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

ইংরেজি শিক্ষার উন্নয়নেও প্রচলিত মূল্যায়ন কাঠামোর বাইরে চিন্তা করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মৌখিক যোগাযোগদক্ষতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ইংরেজি বিষয়ে ৫০ নম্বরের একটি পৃথক মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। এর মধ্যে ২৫ নম্বর রাখা যেতে পারে স্পিকিং পরীক্ষার জন্য এবং বাকি ২৫ নম্বর এমসিকিউয়ের জন্য। মৌখিক অংশে দৈনন্দিন কথোপকথন, সংলাপ, গল্প বলা, উচ্চারণ ও ভাষার স্বাভাবিক ব্যবহার যাচাই করা যেতে পারে।

ভাষা শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ব্যাকরণ মুখস্থ করা কিংবা লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়। বাস্তব জীবনে অন্যের সঙ্গে ইংরেজিতে যোগাযোগ করতে পারাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ইংরেজিতে কথা বলার ভীতি কাটাতেও এ উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে। তবে সারা দেশের বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া সহজ কাজ নয়। এজন্য প্রশিক্ষিত পরীক্ষক, পর্যাপ্ত সময়, উপযুক্ত অবকাঠামো এবং অভিন্ন মূল্যায়ন নির্দেশিকা প্রয়োজন হবে। অন্যথায় পরীক্ষকদের ব্যক্তিগত বিবেচনার কারণে ফলাফলে বৈষম্য দেখা দিতে পারে।

আইসিটি বিষয়টির মূল্যায়ন নিয়ে আরেকটি প্রস্তাব আলোচনার দাবি রাখে। প্রস্তাবটি হলো, বিষয়টি সব শিক্ষার্থীর জন্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে, কিন্তু এতে অকৃতকার্য হওয়া সামগ্রিক ফলাফলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। শিক্ষার্থী পাস করলে তার প্রাপ্ত নম্বর যুক্ত হবে, কিন্তু ফেল করলে সেটি চূড়ান্ত ফলাফলে বাধা সৃষ্টি করবে না। এভাবে পাসের হার বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আইসিটির ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা চালু করার আগে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো বিষয়কে বাধ্যতামূলক বা ঐচ্ছিক হিসেবে নির্ধারণের একটি সুস্পষ্ট শিক্ষাক্রমভিত্তিক কাঠামো থাকা দরকার। বিষয়টি সবার জন্য থাকলেও অকৃতকার্য হলে কোনো প্রভাব না পড়ার ব্যবস্থা ফলাফল প্রস্তুত, সনদ প্রদান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করতে পারে। অথচ বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান শিক্ষা, চাকরি এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু সামগ্রিক পাসের হার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আইসিটির মূল্যায়নকে শিথিল করা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হওয়া দরকার।

বাস্তবে এই ফলাফল বিপর্যয় কোনো একটি বিচ্ছিন্ন সমস্যার ফল নয়। বরং দীর্ঘদিনের নানা দুর্বলতা একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে অসচেতনতা ও অনিয়ন্ত্রিত বিনোদন তাদের পড়াশোনার সময় কমিয়ে দিতে পারে। এর পাশাপাশি পারিবারিক নজরদারির অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের দুর্বলতা, আর্থিক সংকট, দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি এবং নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস না থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অনিয়মের সুযোগ কমে গেলে এই দুর্বলতাগুলো পরীক্ষার ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে এ জন্য শিক্ষার্থীদের এককভাবে দায়ী করা উচিত নয়। শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের ওপরও বর্তায়।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। সব শিক্ষার্থীর ব্যর্থতার পেছনে একই কারণ কাজ করে না। কেউ হয়তো পড়াশোনায় পর্যাপ্ত মনোযোগ দেয়নি, আবার কেউ হয়তো ভালো শিক্ষক, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিংবা উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ পায়নি। বিশেষ করে মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকস্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ফলাফল খারাপ হওয়ার ব্যাখ্যা শুধু শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি বা পড়াশোনায় অনীহার মধ্যে খুঁজলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা প্রশাসনকে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, বিষয়ভিত্তিক যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, ইংরেজি শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং আইসিটি শিক্ষাকে ব্যবহারিক জ্ঞাননির্ভর করে তোলা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য ধারাবাহিক মূল্যায়নব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকদেরও সন্তানদের দৈনন্দিন পড়াশোনা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর কেবল ভালো ফল করার চাপ সৃষ্টি না করে তাদের শেখার আগ্রহ, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বাড়ানোর পরিবেশ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

পরিশেষে বলা যায়, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরেছে। শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার জন্য শুধু তাদের ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না। একইভাবে পাসের হার বাড়ানোর জন্য মূল্যায়নব্যবস্থাকে অযৌক্তিকভাবে সহজ করাও কাম্য নয়। শিক্ষার প্রকৃত মান নির্ভর করে শিক্ষার্থীরা কতটা জ্ঞান অর্জন করছে, কতটা দক্ষতা তৈরি করছে এবং বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান কতটা কাজে লাগাতে পারছে তার ওপর। সুতরাং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের পাশাপাশি মানসম্মত পাঠদান, দক্ষ শিক্ষক, কার্যকর প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এই পরিবর্তন কোনো একক পক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাকে আরও মানসম্মত ও ভবিষ্যৎ উপযোগী করে গড়ে তুলতে।

লেখক: ফয়সাল হাবিব
প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
বাঞ্ছারামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ।


আরও

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০